ঢাকা, বুধবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নরেন্দ্র মোদিকে ঢাকায় স্বাগত

আমাদের গর্ব-অহঙ্কারের কেন্দ্রবিন্দু হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত। ভারতের এই অবদানকে আমরা জাতি হিসেবে চিরদিন স্মরণ রাখতে হবে।আমরা ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ। আসন্ন মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের দেশে আসবেন, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের কোনো একটি অনুষ্ঠানে না আসলে তার খুব একটা ক্ষতি হবে না। আমরা চিরদিনের জন্য অকৃতজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পাব। এখন যারা এটা নিয়ে রাজনীতি করছেন, তারাও ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সাথে সাক্ষাতের প্রচেষ্টা করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন।
দিল্লির ইস্যুটি কেবল ভারতের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এরকম ঘটনা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায়ই দেখা যায়।এজন্য রাষ্ট্রাচার ভুলে তাকে আনার ব্যাপারে শৈথিল্য দেখালে বাংলাদেশের অবস্থা শুধু উপমহাদেশের বিচারে বৃহত্তম প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের নিকটই প্রশ্নবিদ্ধ হবে না, সারা পৃথিবীর কাছে আমাদের দূর্বলতা প্রকাশ পাবে। কিছু লোক তো আছেন, যারা চান না আমরা পৃথিবীতে মাথা উচু করে এগিয়ে যাই। তারা এখানে একটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। ভারতেও তো কিছু উগ্র লোকজন থাকতে পারে, যারা দিল্লির সহিংসতার জন্ম দিয়েছে। উগ্রবাদীদের কথা শুনলে রাষ্ট্র চলবে। দিল্লির সহিংসতায় যারা প্রাণ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই। পাশাপাশি, যারা তাদের উগ্রবাদী আচরণ করেছে, তাদেরকে নিন্দা জানাই। আমাদের দেশেও এখন যারা সুযোগসন্ধানী তাদের কথায় কর্ণপাত করা তো দূরে থাক, তাদের উগ্র বক্তব্যের জন্য তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
বাঙালী হারতে জানে না। আমাদের অকৃত্রিম বিশ্বাস, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে অনমনীয় থাকবেন। উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। কেননা, ওই অনুষ্ঠানে মোদিজি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। তাদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনীর আগে থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। সাথে সাথে ১৯৭১ সালের ঋণ পরিশোধে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল দল ও ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবদান রাখা জরুরি বলে আমি মনে করি।
লেখক : সাংবাদিক ও সভাপতি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, কেন্দ্রীয় কমিটি