বেনাপোলের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মালামাল পুড়ে ছাই

রবিবার, ০৩ জুন ২০১৮ | ৪:০৭ অপরাহ্ণ | 173 বার

বেনাপোলের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মালামাল পুড়ে ছাই

রবিবার ভোর ৫টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে বন্দরের ১৩ নম্বর শেডে রক্ষিত মালামালসহ বন্দর থানার আংশিক পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে হেলিকপ্টারযোগে বেনাপোল বন্দরে আসেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বন্দরের চেয়ারম্যান ও যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর।

স্থানীয়রা জানান, দেশের প্রধান এ স্থলবন্দরে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় এর আগেও আটবার আগুন লাগে। বন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার ভোররাতে বেনাপোলের গুদামের ২৩ নম্বর শেডে আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে গুদামে ও পাশে খোলা আকাশের নিচে রাখা বিভিন্ন মেশিনারিজ, টায়ার, সুতা, কাগজ, কেমিক্যাল এবং অন্যান্য আমদানি পণ্য পুড়ে যেতে থাকে। লোকজন ছোটাছুটি করে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকেও।
বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন জানান, ভোরে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসে আধাঘণ্টা পর। এরপর অন্যান্য ইউনিটের গাড়ি আসা শুরু হয়। কিন্তু এর আগেই আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বন্দরের নিজস্ব ফায়ার ফাইটার ইউনিট অকেজো থাকায় স্থানীয়ভাবে কোনো চেষ্টা করাই সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের ১২টি ইউনিট ও ভারতের একটি ইউনিট আগুন নেভানোর জোর চেষ্টা চালায়। পাঁচ-ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকার বেশি মালামাল পুড়ে গেছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

এদিকে খবর পেয়ে বন্দর পরিচালক আমিনুল ইসলাম, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মণ্ডল, পোর্ট থানা পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন আয়ত্ত্বে আসে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনই বলা যাচ্ছে না।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র সেন বলেন, ‘শর্টসার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। আগুন পুরোপুরি নিভলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো যাবে। বন্দর কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’ এই কমিটি ১০ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট প্রদান করবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষও একটি কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত কমিশনার ফিরোজ উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে রয়েছেন আরো চার সদস্য। তাঁরা সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবেন। অন্যদিকে একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তিন সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করেছে।
সকাল ১১টার দিকে বেনাপোল বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, ২৩ নম্বর শেড ও পাশে খোলা আকাশের নিচে রাখা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস তখনো আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। বন্দর থানার সামনে রাখা বেশ কয়েকটি ভারতীয় ট্রাক ও বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা প্রাইভেট কারও পুড়ে যেতে দেখা যায় এ সময়।
বন্দরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র সেন বলেন, ওই গুদামে নানা ধরনের পণ্য ছিল। তবে প্রসাধন ও রাসায়নিক সামগ্রীই বেশি ছিল বলে জানান তিনি।
বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান বলেন, ১৯৯৬ সালেও বেনাপোল বন্দরে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রায় ২০০ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। আমদানিকারকরা বন্দর থেকে এর কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি। বন্দরের নিজস্ব কোনো বীমা ব্যবস্থা না থাকায় সে সময় কোনো ক্ষতিপূরণ মেলেনি। এবার কী হয়, ব্যবসায়ীরা সেদিকে তাকিয়ে থাকবে।

এসএ টিভির কার্যালয়ে চাকরিচ্যুতদের তালা

Design & Developed by: Ifad Technology