ঢাকা, শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কোম্পানীগঞ্জে আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আবারও হরতালের ঘোষণা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০ টায় কাদের মির্জা বসুরহাট পৌরসভা হলরুম থেকে দলীয় নেতাকর্মিদের ওপর হামলা ও গুলির প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা এই হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

চরপার্বতী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক তানভির হরতাল কর্মসূচির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরো বলেন, হরতালের কারণে বন্ধ থাকবে উপজেলামূখী সকল প্রকার যান চলাচল।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকদের সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কোম্পানীগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও অন্তত দুই পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গুলিবিদ্ধরা হচ্ছেন- উপজেলার বড়রাজাপুর গ্রামের আবদুল ওয়াহিদের ছেলে সাইদুর রহমান (২৬), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নুরুল অমিত (২০) ও বসুরহাট পৌরসভার আবুল কালামের ছেলে রায়হান (২০)।

অপরদিকে গুরুত্বর আহতরা হচ্ছেন- চরফকিরা ইউনিয়নের মো. কাঞ্চন (৬০), মুছাপুর ইউনিয়নের আবুল খায়েরের ছেলে মাসুদ (২৫), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আবদুস সাত্তারের ছেলে কামরুল হাসান (৩০), চরফকিরা ইউনিয়নের আবদুল মান্নানের ছেলে ফরহাদ (৪০), চরফকিরা ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৮) বসুরহাট পৌরসভা এলাকার আদনান (২৪) ও মারুফ (২৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জা বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের কমিটি ভেঙ্গে দিলে আ’লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মির্জানুর রহমান বাদল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশীরহাট বাজারে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার বিকেলে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়।

পরে বাদলের অনুসারীরা চাপরাশীরহাট বাজারে মিছিল করতে গেলে কাদের মির্জার সমর্থকদের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কাদের মির্জা উপস্থিত হলে দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয় এবং তারা সংঘর্ষে রূপ নেয়।