ঢাকা, সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অটো চালক হত্যার আসামী ফরিদ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চাঞ্চল্যকর অটোরিকশা চালক মাসুদ শেখ হত্যার মূল আসামী ফরিদকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মানিকগঞ্জ র‌্যাব কার্যালয় প্রাঙ্গনে সাংবাদিক সম্মেলনে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামী গ্রেফতারের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।
তিনি জানান, মুলত অটোরিক্সার মালিক হওয়ার লোভে, অটো চালক বন্ধুকে হত্যা করে ফরিদ । গত ২ অক্টোবর বিকেলে মাসুদ শেখ অটোরিকশা চালাতে বের হয়। রাত পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় ও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সকল স্থানে খোজাখোজি করে। কোথাও না পেয়ে পরের দিন সাভার থানায় একটি নিখোজের সাধারন ডাইরী করে।
পরবর্তীতে ০৫ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সিংগাইরের দাশেরহাটি গ্রামে অজ্ঞতনামা লাশ পাওয়ার খবরে সেখানে গিয়ে স্বজনরা লাশটি মাসুদ শেখের সনাক্ত করে।
পরে মাসুদ শেখের ভাই মজনু মিয়া বাদী হয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তিদের অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি র‌্যাব-৪ গোয়েন্দা নজরদারিতে ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদ ও বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ০৬ অক্টোবর মধ্যরাতে সাভার মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ডের মূল আসামী মোঃ ফরিদ (৩৩) কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামী ফরিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জনৈক আলমাস হোসেন এর অটোপার্সের দোকান হতে ভিকটিমের ছিনতাইকৃত অটোরিক্সা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আসামীর কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত গামছা ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী ফরিদ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আসামী জানায়, নিজের কোন অটোরিকশা না থাকায় অন্যের অটোরিকশা ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। সে নিজে একটি অটোরিকশার মালিক হওয়ার উদ্দেশ্যে মাসুদের অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। এই উদ্দেশ্যে মাসুদের সাথে প্রথমে বন্ধুত্ব স্থাপন করে, পরবর্তীতে মাসুদের অটোরিকশা ভাড়া করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানাধীন দাশেরহাটি আলমমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার নির্জন স্থানে কৌশলে নিয়ে সুযোগ বুঝে গলায় গামছা পেচিয়ে, ছুরি দিয়ে গলায় উপুর্যপুরি আঘাত করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দুই হাতের আঙ্গুল কেটে বিভিন্ন যায়গায় ফেলে অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে খরার চর বাজারস্থ আলমাস হোসেনের গ্যারেজে নিয়ে ১৫,০০০/- টাকার বিনিময়ে অটোরিক্সার রং, বডি ও মডেল পরিবর্তন করার জন্য রেখে যায় এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থল হতে ২ কিঃমিঃ দূরে গোবিন্দল গ্রামের তালপট্টি জামে মসজিদের পাশে তালপট্টি ব্রীজের নিচ হতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা ফেলে দিয়ে সে আত্মগোপনে চলে যায়।