শেষ বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন মাশরাফির

মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯ | ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ | 73 বার

শেষ বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন মাশরাফির

৩৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড! শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ওই নির্দিষ্ট কক্ষটি এত দীর্ঘ কথোপকথনের সাক্ষী আর কখনো হয়েছে কি না সন্দেহ। ১৬ কোটির স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে উড়াল দেওয়ার আগে অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলন বলে কথা!

এর পরও ক্লান্তিহীন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের আবদার মেটাতে আলাদা আলাদা করে সময় দেন কত জনকে! বৈশাখের দুপুর রোদে ভিজিয়ে ক্লান্ত সূর্য ঢুকে যায় বিকেলের গহ্বরে। মাঝ আকাশ থেকে তেজ কমিয়ে আস্তে আস্তে হেলে পড়তে থাকে পশ্চিমে। বিসিবি সভাপতি ও পরিচালকমণ্ডলীর সঙ্গে পুরো দল চলে যায় মধ্যাহ্নভোজে। মাশরাফি তখনো স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে স্বপ্ন বিলিয়ে যান। এক ফাঁকে দৌড়ে গিয়ে যোগ দেন সবার সঙ্গে। জার্সি উন্মোচন ও অফিশিয়াল ফটোসেশন শেষে আবার আরেক দফা গণমাধ্যমের মুখোমুখি। সবার চাহিদা মিটিয়ে স্পন্সরদের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে ঘটাতে পশ্চিমাকাশে লালিমা ছড়িয়ে অস্ত যাওয়ার পথে দিবাকর। ঘড়িতে পৌনে ৬টা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিশ্বকাপ যাত্রার আরো কত মাহেন্দ্রক্ষণ আসবে! কিন্তু এর অংশ আর কখনো হবেন না মাশরাফি। ইংল্যান্ডে এবারই শেষ লড়াই; বিশ্বকাপে এই শেষ যুদ্ধের ময়দান। কে জানে, হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারেরই! ইনজুরির ছোবলে ক্ষতবিক্ষত রণপায়ে লড়ে যাওয়া যোদ্ধাটি রণক্লান্ত নন তাই। বরং শেষ যুদ্ধযাত্রার আগে বাংলাদেশকে আপাত-অসম্ভব এক স্বপ্ন দেখিয়ে যান এই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন!

নিজের ‘শেষ’ নিয়ে তাঁর কোনো ভাবালুতা নেই। থাকলেও সেটি প্রকাশে রাজি নন। সম্ভাব্য শেষ নিয়ে প্রশ্নে তাই দৃঢ়তা মিশিয়ে জবাব দেন মাশরাফি, ‘সম্ভবত না, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। তাতে আলাদা করে নিজেকে তৈরি করার কিছু নেই। বিশ্বকাপ চাপের আসর। আমার মনে হয় না, আলাদাভাবে তৈরি হয়ে ওখানে কিছু করতে পারব। বরং ক্রিকেটার হিসেবে আমাকে পারফর্ম করতে হবে। আর অবশ্যই অধিনায়কত্বটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার যে দায়িত্ব আছে, চেষ্টা করব সেগুলো ঠিকঠাক করার।’ এই দলটির সম্ভাবনা নিয়ে বরাবরই উচ্চকণ্ঠ তিনি। ১০ দলের টুর্নামেন্টে লিগ পদ্ধতিতে সবার সঙ্গে সবার খেলার ফরম্যাটের কঠিন দিক মাথায় রেখেও ভড়কে যান না। প্রাথমিক লক্ষ্যপূরণে সেরা চার দলের মধ্যে থেকে সেমিফাইনালে খেলার আশার ওড়াউড়ি তাই মাশরাফির কণ্ঠে, ‘সেমিফাইনাল খেলা অসম্ভব না। অবশ্যই সম্ভব। আগের আসরগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচ হেরে গেলে ফিরে আসাটা কঠিন ছিল। এবার সেখানে ৯টি ম্যাচ খেলব। ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সুযোগ। সে জায়গাটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’ সেমিফাইনাল খেলার সে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়ে যান তিনি, ‘এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে আমাদের সেমিফাইনাল যাওয়া খুব বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে যেটা বলতাম যে সেমিফাইনালে গেলে একটা একটা ম্যাচ ধরে এগোব। এখনো তাই বলতে হচ্ছে। সেমিফাইনালে যদি যেতে পারি, অনেক বড় অর্জন হবে।’

সে অর্জনেই কি তৃপ্ত হয়ে ১৬ কোটি তৃষিত ক্রিকেটপ্রাণ? তাঁদের তৃষ্ণা তো চ্যাম্পিয়নশিপের অমৃত সুধা পানের। অমরত্বের সেই হাতছানি মনশ্চক্ষে যেন দেখতে পান মাশরাফিও। তাইতো বিশ্বকাপ জয় খুব কঠিন মেনে নিলেও অসম্ভব বলে মানতে পারেন না এ স্বপ্নসারথি, ‘বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য আমাদের অবশ্যই আছে। কিছু নেতিবাচক দিক অবশ্যই রয়েছে। হয়তো বা গত বছর এশিয়া কাপ জিতলে অভ্যাস হতো, এজাতীয় টুর্নামেন্ট কিভাবে জেতা যায়। ফাইনালে উঠেও বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট আমরা জিততে পারিনি। সেটি হলে মানসিক চাপ সামলানো সহজ হতো। তার পরও আমি বলব, বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপ জয় হয়তো খুব কঠিন, কিন্তু অসম্ভব না।’

সেই অসম্ভবকে সম্ভব করাই এখন মাশরাফির চাওয়া-পাওয়ার জগত্জুড়ে। ২০০১ সালে লাল-সবুজ বুকে ধারণ করে ছোটা শুরুর পর থেকে তো উত্থান-পতন কম দেখেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে এখন দলকে এনে দাঁড় করিয়েছেন আলোর ঝরনাধারার সামনে। সেই ঝরনাজলে স্নানের ব্যাকুলতা মাশরাফির, তাঁর আকুলতা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে শক্ত এক ভিতের ওপরে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার। ব্যক্তিগত বিদায়ের রাগিণী ছাপিয়ে দলীয় সাফল্যের অর্কেস্ট্রাই যেন শুনতে পাচ্ছেন অধিনায়ক। সে জন্য ক্যারিয়ারজুড়ে দুর্ভাগ্যের সঙ্গে মিতালি গড়া মাশরাফি এবার চান ভাগ্যের স্পর্শও, ‘আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। বাড়তি চাপ নিতে চাই না। নিজের শেষ বিশ্বকাপ নিয়েও চিন্তা করছি না। আমি সব সময় ভাগ্যে বিশ্বাসী। পুরো দলের ভাগ্যে যেটা আছে, সেটাই হবে। আমরা ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। বিশ্বকাপে এমন কিছু যদি করতে পারি, যাতে বাংলাদেশকে নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাবে-সেটি করতে পারলেই ভালো লাগবে।’

তাই যেন হয়। আর তাই যদি হয়, তাহলে বিদায়ী বিশ্বকাপ হলেও এটি মাশরাফির জন্য বিদায় হবে না কিছুতেই। অবসরে অমরত্বে উত্তরণ হবে কেবল!

এ কর্মসূচির আওতায় সংগৃহীত বর্জ্য নিয়ে নামচে শহরে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এ ছাড়া আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কাঠমাণ্ডুতেও ফের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এরপর চূড়ান্তভাবে বর্জ্যগুলো রিসাইকেল করা হবে। সূত্র : পিটিআই।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় সাংবাদিক নেতা আজমীর তালুকদারকে অব্যাহতি

Design & Developed by: Ifad Technology