ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাকিবেও ভাগ্য বদলায়নি বাংলাদেশের, লজ্জার হার

দ্বিতীয় টেস্ক শুরু আগে অধিনায়ক ঘোষণা দিয়েছেন যে সাকিব আল হাসান ফিরলে বাংলাদেশে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু সেটা আর হলো কই। লজ্জার হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো টাইগারদের। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ১১টা ১৫। পূবের সূর্যও তখন মধ্যগগনে আসার অপেক্ষায়। রৌদ্রজ্জ্বল দিনের তেজ অনুভূত হচ্ছিল সকাল থেকে। একটু মৃদুমন্দ বাতাস হালকা দোলা দিয়ে যাচ্ছিল। সাদা পোশাকে লাল বলের ক্রিকেট খেলার আদর্শ পরিবেশ। অথচ বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা তখন একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন! ওহ। খেলাটাই যে শেষ। অতিথিদের ড্রেসিংরুমে যখন হাসির জোয়ার তখন স্বাগতিক শিবিরে পিনপতন নীরবতা।

একপক্ষ যখন শিরোপা নিয়ে উল্লাসে। আরেকপক্ষ মুখ লুকাচ্ছে। আরেকটি টেস্ট হারের হতাশার সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে হোয়াইটওয়াশের দাগ। বাংলাদেশকে ১৯২ রানে হারিয়ে সিলেটের পর চট্টগ্রাম টেস্টেও বিজয়ের পতাকা উড়ালো শ্রীলঙ্কা।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দুইটি জিতে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করল শ্রীলঙ্কা। বুধবার (৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম টেস্টে ১৯২ রানের বড় জয় পেয়েছে তারা। পেসার খালেদকে বোল্ড করার মধ্য দিয়ে লঙ্কানদের জয় নিশ্চিত করে লাহিরু কুমারা।

মিরাজের অপরাজিত ৮১ রানে ভর করে ৩১৮ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। সিরিজটা বাংলাদেশ হেরেছে ২-০ ব্যবধানে।

এর আগে ৫১১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গতকাল চতুর্থ দিনে প্রথমবারের মতো চলতি সিরিজে ২০০ রান পার করেছিল বাংলাদেশ। মুমিনুল হকের ৫০ রানের পাশাপাশি সাকিব আল হাসানের ৩৬, লিটন দাসের ৩৮ রান বাংলাদেশকে দিয়েছিল বলার মতো স্কোর। শেষ বিকেলে মিরাজের ৪৪ রান চট্টগ্রাম টেস্টকে টেনে নিয়েছিল ৫ম দিন পর্যন্ত।

চট্টগ্রামের ফ্ল্যাট উইকেটে আগে ব্যাট করে রানের বিশাল পাহাড় দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। ৬ অর্ধশতকের সুবাদে তাদের সংগ্রহ ছিল ৫৩১ রানের। কোনো সেঞ্চুরি ছাড়া এটাই দলীয় সর্বো”চ রানের রেকর্ড। এরপর বাংলাদেশ যথারীতি দেখিয়েছে নিজেদের হতশ্রী ব্যাটিংয়ের নমুনা। ১৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দলের পক্ষে ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন মোটে দুইজন।

ফলো-অন না করিয়ে নিজেরাই ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে বাংলাদেশকে ক্ষণিকের স্বস্তি দিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। অভিষিক্ত এই বোলার ৪ উইকেট শিকার করেন। তবে চতুর্থ দিন ডিক্লেয়ার করার আগপর্যন্ত নিজেদের লিড ঠিকই ৫১০ পর্যন্ত টেনে নেয় লঙ্কান ব্যাটাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৭ রানে নিজেদের ইনিংস ঘোষণা করলে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৫১১। রানতাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ গিয়েছে ৩১৮ পর্যন্ত।