ঢাকা, রবিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংজ্ঞা পাল্টেছে, বেড়েছে গতিও

দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংজ্ঞা ও গতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে ২০ এমবিপিএস (মেগাবিটস পার সেকেন্ড) বা তার বেশি গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগকে ব্রডব্যান্ড হিসেবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

সম্প্রতি টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ব্রডব্যান্ডের নতুন গতি ও সংজ্ঞা অনুমোদন দিয়েছে। আর এরই সঙ্গে সংশোধন হতে যাচ্ছে জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা।

দেশে জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় ২০০৯ সালে। প্রায় এক যুগ পরে এই নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ২০২৩-এর খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, এখন ব্রডব্যান্ডের গতি হবে ২০ এমবিপিএস বা তার চেয়ে বেশি। দেশে এখন যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয় তাতে করে ব্রডব্যান্ডের গতি ১০ এমবিপিএস থাকা উচিত নয়। ফলে এটি বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, মোবাইল ইন্টারনেট হলো সাময়িক সমাধান। ব্রডব্যান্ডই আসল। আমাদের এতে ফিরতেই হবে।

জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে ৬ বার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৮ সালে যা ছিল ১২৮ কেবিপিএস, ২০১১ সালে ৫১২ কেবিপিএস, ২০১৩ সালে ১ এমবিপিএস, ২০১৫ সালে ২ এমবিপিএস, ২০১৬ সালে ৫ এমবিপিএস এবং ২০১৮ সালে ১০ এমবিপিএস গতি নির্ধারণ করে ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা ঠিক করা হয়। গতি এর নিচে থাকলে তাকে ন্যারোব্যান্ড বলে অভিহিত করা হয়। ২০২১ সালের জন্য ব্রডব্যান্ডের গতি ঠিক করা হয় ২০ এমবিপিএস।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, ২০২৩ সালের খসড়া ব্রডব্যান্ড নীতিমালায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে ব্রডব্যান্ডের গতি ঠিক করা প্রস্তাবনা এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে।

ওই প্রস্তাবনায় ২০২৩ সালের স্বল্প মেয়াদি লক্ষ্যে ৩০ এমবিপিএস, ২০৩১ সালের মধ্য মেয়াদি লক্ষ্যে ২ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) এবং ২০৪১ সালের দীর্ঘ মেয়াদি লক্ষ্যমাত্রায় ব্রডব্যান্ডের গতি ১০ জিবিপিএস নির্ধারণ করা হয়েছে।