ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর জলোচ্ছ্বাস, পানির নিচে ১০টি গ্রাম

শুক্রবার, ২২ মে ২০২০ | ৯:২২ পূর্বাহ্ণ | 25 বার

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পর জলোচ্ছ্বাস, পানির নিচে ১০টি গ্রাম

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বরগুনার আমতলী উপজেলায় বিধ্বস্ত হয়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, জলোচ্ছ্বাসের কারণে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানির নিচে তলিয়ে গেছে দুটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এতে আমতলীর পৌরসভাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলিশাখালী ইউনিয়নের নাইয়াপাড়া ও হিন্দুপাড়ার শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সেখানকার অনেক ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। তীব্র বাতাসে গাছ উপড়ে পড়েছে। পানির তোড়ে ৪৩/২-এফ পোল্ডারের কালীবাড়ী এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে দুটি মাছের ঘের। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে গোজখালী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি টিনসেট ভবন।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৪৩/১-এ শাখারিয়া, গোডাঙ্গা স্লুইচ গেট ও ৫৪/বি পশ্চিম গাজীপুর এলাকায় পানির চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে সাতটি গ্রাম। এই ইউনিয়নেও গাছপালা উপড়ে পড়েছে। আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে বেশ কিছু ঘরবাড়ি।

কুকুয়া ইউনিয়নে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, বেশ কিছু ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে ও গাছপালা উপড়ে পড়েছে। সদর ইউনিয়নে গাছপালাসহ শতাধিক ঘরবাড়ি, ২৫টি মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে ও উত্তর পশ্চিম কালামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ভবটির টিনের চালা উড়ে গেছে।

চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটাসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গাছপালা উপড়ে পড়েছে। শতাধিক ঘরবাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরতদের ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হলদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্নস্থানে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ও গাছপালা উপড়ে পড়েছে। আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া ও পৌরসভার ৫টি ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের বাইরে পায়রা নদীর তীরে বসবাসরত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মিয়া। আমাদের সময়কে তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসরত নাইয়াপাড়া ও হিন্দু পাড়ার বাসিন্দাদের। তাদের প্রায় দুইশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। একটি স্কুল ভবন ও বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।’

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো হারুন অর রশিদ  বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের পানির চাপে তিনটি স্পটে বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতটি গ্রামের লোকালয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে।’

সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা জানান, তার ইউনিয়নের ২৫টি মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে ভেসে গেছে। একটি মাদ্রাসার টিনের চালা সম্পূর্ণ উড়ে গেছে ও বেশ কিছু বাড়িঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, ‘পৌরসভার ১, ৪, ৫, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ওয়াবদা বেড়িবাঁধের বাইরে পায়রা নদীর তীরে বসবাসরত পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা পারভীন বলেন, ‘যে কয়টি এলাকায় ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, খবর পেয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে, তিনি দ্রুত বাঁধগুলো মেরামত করে দেবেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তা প্রদান করা হবে।’

স্কুল ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করলো ছাত্রলীগ সভাপতি

Design & Developed by: Ifad Technology