কাদের-রওশন দ্বন্দ্বে অস্তিত্ব নিয়ে টান

শুক্রবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ | 47 বার

কাদের-রওশন দ্বন্দ্বে অস্তিত্ব নিয়ে টান

বিভক্ত হওয়ার কিনারায় নেমে গেছে জাতীয় পার্টি। সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছে দলটির একাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রওশন এরশাদের গুলশানের বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ সময় রওশন এরশাদ উপস্থিত ছিলেন। এ ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পর পার্টির বনানী কার্যালয়ে তাত্ক্ষণিক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘কেউ নিজেকে সম্রাট হিসেবে দাবি করলেই তিনি সম্রাট হয়ে যান না। তার জন্য পারিপার্শ্বিকতা থাকতে হয়।’ তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পার্টির গঠনতন্ত্র অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।

গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বক্তব্য দেন। তিনি জাপার সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা এবং একসময়ে যাঁরা জাতীয় পার্টিতে ছিলেন এখন অন্য দলে আছেন তাঁদেরও দলে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তবে তিনি জাপার বিদ্যমান চেয়ারম্যান (জি এম কাদের) সম্পর্কে, কিংবা সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন বা রংপুরের উপনির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

রওশন এরশাদ পরে রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করতে পাল্টা পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করেছেন বলে জানানো হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি নিজেই।

এদিকে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে রওশন ও জি এম কাদের দুজনই গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে দাবি করেছেন, জাতীয় পার্টি ভাঙেনি, বিভক্ত হয়নি। রওশন বলেন, ‘আমি বলছি পার্টি ভাঙেনি। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।’

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে জি এম কাদেরের সমালোচনা করেন এবং এইচ এম এরশাদ বারবার দল থেকে কাদেরকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। কাদেরকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এরশাদের চিঠি সম্পর্কে তিনি বলেন, সেই সময়ে এরশাদ শয্যাশায়ী ছিলেন এবং এরশাদের বাসভবন ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’ কাদের ও তাঁর লোকদের দখলে ছিল। ‘আমার স্বাক্ষর নকল করে কেউ সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে পারে’ মৃত্যুর কিছুদিন আগে এরশাদের এই জিডির বিষয়ে উল্লেখ করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরো বলেন, ‘জি এম কাদেরকে যে সময়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সেই সময়ে এরশাদ ওই সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছিলেন। পার্টির চেয়ারম্যান হওয়ার পর কাদের সংগঠনের প্রেসিডিয়ামের কোনো বৈঠক করেননি এবং স্বেচ্ছাচারীভাবে পার্টি চালাচ্ছেন।’ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, জি এম কাদের একসময়ে জাতীয় পার্টি ছেড়ে রংপুরে তৃণমুল জাতীয় পার্টিও করেছিলেন।

এরশাদের চিঠির পর জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কেন কথা বলেননি—এই প্রশ্নের জবাবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘এইচ এম এরশাদ শয্যাশায়ী ছিলেন বলে কোনো কথা বলিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছিলাম। রওশনকে বাদ দিয়ে জি এম কাদের পার্টির সংসদীয় বোর্ড করেছেন, বিভিন্ন জেলা কমিটি পুর্নগঠন করছেন, এটা তিনি পারেন না। যেদিন এরশাদকে কবর দেওয়া হয় সেই সময় কাদের নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন।’ পার্টির গঠনতন্ত্রের বিশেষ উপধারা ২ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, গঠনতন্ত্রে বলা আছে পার্টির চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি হলে প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতামতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দল চালাবেন। গঠনতন্ত্র অনুসারে রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কো-চেয়ারম্যান। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান মারা গেলে প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানই জাপার চেয়ারম্যান হবেন বলে গঠনতন্ত্রে বলা আছে। সে অনুসারে আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) থেকেই রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় পার্টির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

রওশন এরশাদের সংবাদ সম্মেলনের পর পার্টির বনানী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন ও রংপুরের উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করা। গত ৩ সেপ্টেম্বর আমরা বিরোধীদলীয় নেতা ঠিক করে স্পিকারকে একটি চিঠি দিয়েছি। আমাকে বিরোধীদলীয় নেতা ঠিক করা হয়েছে। এ নিয়ে কিছু লোক প্রশ্ন তুলেছেন।’

গত ১৭ আগস্ট জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের অনুষ্ঠিত সভার রেজুলেশন দেখিয়ে কাদের বলেন, ‘ওই সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে আমাকে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব করা হয়। জাতীয় পার্টির ২৫ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৫ জনের স্বাক্ষরসহ সে সভার সিদ্ধান্ত আমরা স্পিকারকে দিয়েছি।’ পার্টির গঠনতন্ত্রের ২২ ধারার উদ্ধৃতি দিয়ে কাদের বলেন, ‘বলা আছে—জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামত নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ঠিক করবেন। সে পথ অনুসরণ করেই আমরা নেতা ঠিক করে চিঠি দিয়েছি। গঠনতন্ত্রে এমন কোনো কথা বলা হয়নি যে সংসদীয় বোর্ডের সভা ডেকে নেতা ঠিক করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, যে পদ্ধতি অনুসরণ করে তাঁকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা করা হয়েছে, একই পদ্ধতিতে রওশন এরশাদকেও বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হয়েছিল। সে সময়ও সংসদীয় দলের কোনো সভা হয়নি।

পার্টির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কাদের বলেন, ‘পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০ ধারার ১ উপধারার ক-তে বলা আছে—জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যে কাউকে অপসারণ ও তার স্থলাভিষিক্ত করতে পারবেন। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদ আমাকে গঠনতন্ত্র অনুসারেই স্থলাভিষিক্ত করে গেছেন। মৌখিক নয়, এ বিষয়ে তিনি লিখিত চিঠি দিয়েছেন।’

জি এম কাদের আরো বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে পার্টির চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি হলে একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন বলা আছে। এখানে মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ নেই। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এরশাদ অসুস্থতায় অনুপস্থিতির সময়ে জি এম কাদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে চিঠি দিয়েছিলেন। আমি সে সময় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং তার আগে দেওয়া চিঠি অনুসারে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি।’ তিনি গঠতন্ত্রের ৩৮ ধারার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘এ ধারায় বলা আছে—গঠনতন্ত্রের কোনো ধারার বক্তব্য অস্পষ্ট মনে হলে প্রেসিডিয়াম সভায় তা স্পষ্ট করতে হবে। গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রেসিডিয়ামের সভায় সবাই আমাকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে অভিনন্দন জানিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। সে হিসাবে আমি গঠনতন্ত্র অনুসারেই জাপার চেয়ারম্যান।’

কাদের বলেন, ‘তবে আমি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিল অনুষ্ঠান করব বলে প্রস্তুতি নিচ্ছি। গঠনতন্ত্রের কোথাও বলা নেই যে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন।’

জাতীয় পার্টি ভেঙে যাচ্ছে কি না—প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘একটি বিষয় লক্ষ করুন, রওশন এরশাদ কিন্তু তাঁর বক্তব্যে পার্টির চেয়ারম্যান, বিরোধীদলীয় নেতা—এসব নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এগুলো বলেছেন অন্য একজন। কেউ কেউ জাতীয় পার্টিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছেন। তাঁরা ব্যর্থ হবেন। কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রওশন এরশাদের সংবাদ সম্মেলনে আনিসুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়, রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করলেন, তাহলে মহাসচিব কে? জবাবে তিনি বলেন, ‘মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।’ তাহলে তিনি উপস্থিত নেই কেন—জানতে চাইলে বলেন, ‘উনি একটু কাজে আছেন।’

জি এম কাদেরকে মহাসচিব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘মসিউর রহমান রাঙ্গা আমাকে ফোনে বলেছেন, তিনি আমার সঙ্গেই আছেন। তিনি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছেন।’

রওশনের সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আনিসুল ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুজিবুল হক চুন্নু, লিয়াকত হোসেন খোকা, সেলিম ওসমান ও গোলাম কিবরিয়া টিপু। ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফয়সাল চিশতি, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টু ও এরশাদের ভাতিজা মেজর (অব.) খালেদ আকতার। চার থেকে পাঁচ শ দলীয় নেতাকর্মী এ সময় সেখানে জড়ো হয়েছিল, যাদের বেশির ভাগই আসে নারায়ণগঞ্জ থেকে।

অন্যদিকে জি এম কাদেরের সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, শরিফুল ইসলাম জিন্না, সালমা ইসলাম, নাজমা আকতার, আদেলুর রহমান, নুরুল ইসলাম তালুকদার ও গোলাম কিবরিয়া টিপু। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে ছিলেন জিয়াউদ্দিন বাবলু, কাজী মামুন, সুনীল শুভ রায়, রংপুরের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, আলমগীর শিকদার লোটন, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় প্রমুখ।

বিরোধী দলের মর্যাদা হারাবে জাতীয় পার্টি!

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে জাপার সংসদ সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে জাতীয় পার্টির বিরোধী দলের মর্যাদা আদৌ থাকবে কি না সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতার পদ শূন্য হয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর নিজেকে বিরোধীদলীয় নেতা করার দলীয় সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে স্পিকারকে চিঠি দেন জি এম কাদের। ওই চিঠি গ্রহণ না করার অনুরোধ জানিয়ে গত বুধবার স্পিকারকে চিঠি দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। এরপর গতকাল রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছে একাংশ।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২(১)(ট) বিধিতে বলা হয়েছে, ‘বিরোধী দলের নেতার অর্থ স্পিকারের বিবেচনামতে—যে সংসদ সদস্য সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য লইয়া গঠিত ক্ষেত্রমত দল বা অধিসংঘের নেতা।’ সে হিসেবে বিরোধী দলের স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি স্পিকারের একক এখতিয়ারের বিষয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় সদস্যরা বসে তাঁদের নেতা নির্বাচন করবেন। এরপর স্পিকারকে তা লিখিতভাবে জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। জাপার দুই পক্ষের চিঠি পেলেও বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মালদ্বীপে স্পিকারস সামিট থেকে সবে ফিরলাম। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দুটি চিঠি পাঠানোর কথা শুনেছি। চিঠি দেখে পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তবে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া মনে করেন, জাতীয় পার্টি বিভক্ত হয়ে গেলে তাদের বিরোধী দলের মর্যাদা থাকতে পারে না। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা কারো বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিলে স্পিকার তাঁকে বিরোধীদলীয় নেতা ঘোষণা করবেন। আর বিভক্ত সিদ্ধান্ত হলে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কিন্তু জাতীয় পার্টি বিভক্ত হয়ে গেলে তাদের বিরোধী দলের মর্যাদা থাকতে পারে না। কারণ, ১০-১৫ জন সংসদ সদস্য নিয়ে কোনো দল একটি সংসদীয় গ্রুপ হতে পারে। সেখানে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা থাকবেন না।’

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদের বিরোধী দল হতে ঠিক কতসংখ্যক সদস্য প্রয়োজন তা নির্ধারিত নেই। প্রথম সংসদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংসদ নেতা নির্বাচিত হলেও ওই সংসদে কোনো বিরোধী দল বা বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রথম সংসদে ১৯৭৩ সালের ১২ এপ্রিল একটি বিতর্কও হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিরোধী গ্রুপের স্বীকৃতি মিললেও বিরোধী দল বা নেতার স্বীকৃতি মেলেনি। এ ছাড়া মাত্র ১২ দিন স্থায়ী ষষ্ঠ সংসদও চলছে বিরোধী দল ছাড়াই। ওই সংসদে সরকারি দলের বাইরে থাকা কোনো দল প্রয়োজনীয়সংখ্যক আসন না পাওয়ায় বিরোধী দল বা তাদের নেতা নির্বাচিত হননি। তবে ১৯৮৮ সালে বিশেষ বিবেচনায় কয়েকটি দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সম্মিলিত কয়েকটি দলকে বিরোধী দল ও তাদের নেতা আ স ম আব্দুর রবকে বিরোধীদলীয় নেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সংসদের বিরোধী দল ও বিরোধীদলীয় নেতার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণই একমাত্র নির্দেশনা। ১৯৭৩ সালের ১২ এপ্রিল সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তৎকালীন সংসদ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, সংসদীয় কনভেনশন অনুযায়ী পাঁচ-সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত কোনো গ্রুপের নেতাকে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। তেমনি ২৫ জনের কম সদস্য নিয়ে গঠিত কোনো দলকে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ নেই।

পাল্টা পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করলেন রওশন

এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করেছেন রওশন এরশাদ। বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন রওশন এরশাদ নিজে। সদস্যসচিব হিসেবে রাখা হয়েছে মশিউর রহমান রাঙ্গাকে। সদস্য রাখা হয়েছে জি এম কাদের, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, মুজিবুল হক চুন্নু, কাজী ফিরোজ রশিদ, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, গোলাম কিবরিয়া টিপু, ফকরুল ইমাম, সুনীল শুভ রায়, আতিকুর রহমান আতিক ও মজিবুর রহমান সেন্টুকে।

পেঁয়াজের কেজি মাত্র ৮ টাকা, ভারতে কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদ

Design & Developed by: Ifad Technology