কৃষক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী, সভাপতি সমীর, সম্পাদক স্মৃতি নির্বাচিত

কৃষি ও কৃষককে অবহেলা করে উন্নয়ন নয়

বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ | 19 বার

কৃষি ও কৃষককে অবহেলা করে উন্নয়ন নয়

কৃষিকাজ করাকে গর্বের বিষয় বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষি ও কৃষককে গুরুত্ব দিয়ে সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা করে থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা উন্নত হব, শিল্পায়নে যাব। কিন্তু কৃষককে ত্যাগ করে নয়, কৃষিকে ত্যাগ করে নয়। কারণ কৃষি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। খাদ্য দেয়, পুষ্টি দেয়, সব কিছু করে। কাজেই আমাদের দেশে উন্নয়ন প্রকল্পটা আমরা এমনভাবে নিই, যাতে কৃষকদের আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই।’

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর জাতীয় পতাকা ও কৃষক লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। পরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কৃষক লীগের সাংগঠনিক নেত্রী। কৃষক লীগের দশম জাতীয় এই সম্মেলনে সারা দেশের নেতাকর্মীরা যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গতবার ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটের কারণে আমাদের ছাত্রলীগকেও বলেছিলাম, তোমরা এখন মাঠে চলে যাও, সবাই ধান কাটায় কৃষকদের হাত বাড়াও, তাদের সঙ্গে হাত লাগাও। এটা লজ্জার কিছু না। নিজের কাজ নিজে করায় লজ্জার কিছু থাকে না। নিজের ফসল নিজে উৎপাদন করব, নিজের খাবার নিজে খাব, তাতে লজ্জার কী আছে। কোনো কাজে লজ্জা নেই। সব কাজ করার মতো ক্ষমতা রাখি, প্রয়োজনে আমিও বলেছি, আমিও যাব। আমি আমার গ্রামে বলে রেখেছি, তোমরা যখন ধানের বীজতলা রোপণ করবে বা ধান কাটবে আমাকে খবর দেবে, দরকার হলে আমিও যাব। কারণ আমার এতে কোনো লজ্জা নেই।’

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পর অনেকের কৃষিকাজ করতে না চাওয়ার প্রবণতার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের যারা লেখাপড়া শেখে, লেখাপড়া শিখলেই তারা আর কৃষিকাজে মাঠে যেতে চায় না। কৃষকের ছেলে, বাবা কৃষিকাজ করে লেখাপড়া শিখিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। তারা দুই পাতা (লেখাপড়া) পড়েই মনে করে, আমি কেন মাঠের কাজে যাব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা গ্রামকে ঘিরে। আমরা ব্যাপকভাবে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি করে দিচ্ছি। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এ জন্য সমবায়কে আরো গুরুত্ব দিতে চাই। কৃষকদের জন্য কৃষি বীমা কিভাবে করে দেওয়া যায় তার চিন্তা করা হচ্ছে। যাতে তারা ফসল হারালে তার ক্ষতিপূরণ পায়, সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল দেশকে নিয়ে। দেশের মানুষকে নিয়ে। আজকে আওয়ামী লীগ একটানা তৃতীয়বার সরকারে আছে। এ জন্য বাংলার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান।

জাতির পিতার বিভিন্ন বইয়ের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর যে লেখাগুলো তার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের রাজনৈতিক জীবনের অনেক কিছু শিখতে পারি। কিভাবে দেশের জন্য ত্যাগ করা যায়? কিভাবে মানুষের কল্যাণে ত্যাগ করা যায়? শুধু কিছু পাওয়ার জন্য না, মানুষকে দেওয়ার জন্য যে রাজনীতি, রাজনীতি মানে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, নিজের ভাগ্য নয়। এই আদর্শের শিক্ষা নেওয়া যায় তাঁর লেখাগুলো পড়লে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করা হয়। এরপর প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ব্যাজ পরান সংগঠনের নেত্রীরা। তারপর সংগঠনের সাময়িকী ‘কৃষকের কণ্ঠ’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেতো বঙ্গবন্ধু মরে নাই…’ গানটি পরিবেশন করা হয়। এরপর দলীয় সংগীত ‘কৃষক বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও হাসিনার নির্দেশে’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

সম্মেলন মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর দুই পাশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সর্বভারতীয় কৃষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার রঞ্জন উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর দে। সম্মেলনে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম পানু। এরপর শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক ও সংগঠনের সহসভাপতি শরীফ আশরাফ স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি স্বাগত বক্তব্যে আগামী দিনে দুর্নীতিবাজদের কৃষক লীগে স্থান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন নিয়মিত করার ব্যাপারে অনুরোধ জানান। এরপর সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোন্দকার শামসুল হক রেজা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং সর্বভারতীয় কৃষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার রঞ্জন।

সমীর সভাপতি, স্মৃতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত : উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এরপর বিকেলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে বিদায়ী কমিটির দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র সভাপতি ও অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

Design & Developed by: Ifad Technology