নিজেরাই তৈরি করে নাম দিলো ‘স্বপ্নের সেতু’

বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৫:৪৯ অপরাহ্ণ | 12 বার

নিজেরাই তৈরি করে নাম দিলো ‘স্বপ্নের সেতু’

স্থানীয়দের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে ৬০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর দুর্ভোগ লাগবে স্বপ্ন দেখিয়েছে জনপ্রতিনিধিরা। ভোটের বাক্স ভরলেও কথা রাখেনি তারা। উদ্যোগতো নয়ই, বরং তারা প্রতিশ্রুতিও রাখেনি। আসেনি সরকারি কোনো বরাদ্ধ। অবশেষে এলাকার যুবকরা স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছে। যে কারণে এ সাঁকোর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্নের সেতু’।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটারিরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জারিরদোনা খালের ওপর এ সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। শতাধিক যুবকের উদ্যোগে গ্রামবাসীর দেয়া বাঁশ-কাঠ ও টাকায় ২৭ দিনে এটি নির্মাণ হয়। এ সাঁকো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সোয়া লাখ টাকা।

বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে ‘স্বপ্নের সেতু’র উদ্বোধন করা হয়। যারা স্বেচ্ছাশ্রমে এটি নির্মাণ করেছেন তারাই স্থানীয়দের নিয়ে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। এর আগে সাঁকোটি বর্ণিল সাজে সাজানো হয়।

গ্রামের লোকজন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকার জেলে-কৃষকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে এ সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এতে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে থাকা শত শত পরিবারের সাময়িক দুর্ভোগ কেটেছে। তবে তারা স্থায়ীভাবে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান।

ভুক্তভোগীরা জানান, জারিরদোনা খাল ভেঙে চলাচলের রাস্তা (বেড়িবাঁধ) বিলীন হয়ে যায়। যে কারণে গত ৬ বছর ধরে এলাকাবাসী চরম দুঃখ-কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাটলেও নজরে আসেনি কারও। উপায় না পেয়ে নিজেরাই নিজদের চলাচলের জন্য সাঁকোটি নির্মাণ করেন। পাটারিরহাট উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের উপর দিয়ে পাটারিরহাট-খায়েরহাটে আসা-যাওয়া। খাল পাড়ের ওই বেড়িবাঁধটি ভেঙে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী।

এদিকে চলাচলের রাস্তা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে তুলতে পারেন না। শিক্ষার্থীরা যেতে পারে না স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায়। বর্ষা এলেই গৃহবন্দি হয়ে পড়তেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। কেউ অসুখে পড়লে রোগীকে হাসপাতালে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়তো। এমন পরিস্থিতে পড়ে থাকলেও ওই গ্রামের বাসিন্দাদের পাশে জনপ্রতিনিধি ও কোনো রাজনৈতিক নেতা এসে দাঁড়ায়নি।

অবশেষে এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে কমলনগর স্টার ক্লাব, নিউ তারুন্য তরঙ্গ সংসদ, স্টুডেন্ট সংসদ ও জুনিয়র একতা সংঘ নামের চারটি সংগঠন সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে তারা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন থেকে টাকা ও কাঠ-বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এতে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। স্বেচ্ছায় শ্রম না দিলে এটির নির্মাণ ব্যয় হতো অন্তত ৫ লাখ টাকা।

সাঁকো উদ্বোধনকালে বক্তব্য রাখেন, কমলনগর স্টার ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. মাকছুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, নিউ তারুন্য তরঙ্গ সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলম রাজা, দিদার হোসেন, রাকিব হোসেন, শাহেদ, নিরব, সাকের ওয়ারেছ, শাকিল ও তানভির প্রমুখ।

কমলনগর স্টার ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. মাকছুদুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর দুর্ভোগ লাগবে আমাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। এলাকার যুবকরা স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছে। যে কারণে এ সাঁকোর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্নের সেতু’।

Design & Developed by: Ifad Technology