মোবাইল বিক্রি করে খাবার ঝোগাড় করলেন শরীয়তপুরের শ্রমজীবি শাহানাজ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০ | ৭:৫৩ অপরাহ্ণ | 15 বার

মোবাইল বিক্রি করে খাবার ঝোগাড় করলেন শরীয়তপুরের শ্রমজীবি শাহানাজ

ঘরে খাবার নেই। কারো কাছে কোন সহায়তা পাইনি। ধারদেনা করে চারদিন চললাম। এখন ঘরে খাবার নেই হাতে টাকা নেই তাই মোবাইল বিক্রি করে চাল কিনতে বাজারে আইছি। কথা গুলো বলছিলেন ২সন্তানের জননী শাহনাজ বেগম। তার বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার পালং ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামে। শাহনাজের স্বামী আঃ হাই খন্দকার দীর্ঘদিন অসুস্থ্যতার কারনে অচল। সে কোন কাজ করতে পারেনা। দুই ছেলে লিয়াকত ও হজরত পরিবার পরিজন নিয়ে আলাদা খায়। বড় ছেলে শওকত মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী অন্যত্র চলে গেলে একটি মাত্র মেয়ে শাহনাজের সাথে খায়। লিয়াকত রিক্সা চালায় আর হজরত ইটভেঙ্গে দিনাতিপাত করে। ৫০ উর্দ্ধ শাহনাজ বেগম ও ইটভেঁেঙ্গ জীবিকা নির্বাহ করেন । করোনা ভাইরাসের দীর্ঘ বন্ধের কারনে গত ৪ দিন কোন কাজ নাই। ধার দেনা করে কোন রকম চলে শাহনাজের সংসার। ঘরে খাবার না থাকায় ৪ দিন পর কোন উপায় না দেখে খাবারের সন্ধ্যানে বাড়ির বের হয় শাহনাজ বেগম। কোথাও কোন খাবার বা টাকা পয়সা যোগাড় করতে না পেরে পালং ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার মকফর উদ্দিন শেখ এর কাছে সরকারী সাহায্যের কার্ড চাইতে যান। মেম্বার বলছেন আমি ৩টি কার্ড পেয়েছি মাত্র, এগুলো দেয়া হয়ে গেছে। আমার কাছে অরা কোন কার্ড নেই।তোমাদেও তো বয়স্কভাতা দিয়েছি। তখন তিনি উপপায়ান্তÍ না পেয়ে শাহানাজ নিজের ঘরের খাবার ও স্বামীর জন্য ঔষধ কিনতে নিজের হাতের একটি স্মার্টফোন (সামসেং) ১হাজার টাকায় বিক্রি করে পালং বাজারে চাল ও ঔষধ কিনতেআসেন। এ সময় তিনি দুঃখ করে কথা গুলো বলছিলেন প্রতিবেদককে। তিনি আরো বলেন সরকার গরীব মানুষের জন্য সাহায্য দিছে। আমরাতো পাইনাই।আমাগো কি দিবনা ?। শনিবার পর্যন্ত তাদের কাছে সরকারী কোন সাহায্য পৌছেনি। শুধু শাহানাজ্ইে নয় একই অবস্থা বিরাজ করছে শরীয়তপুর জেলার ৬টি উপজেলায়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শরীয়তপুরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। রাস্তায় কোন লোক নেই জন নেই। শহরে ভুতড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। সবাই এখন ঘরমুখো। তাই কাজ কর্ম বন্ধ না পেয়ে দিনমজুর ও শ্রমিকেরা বিপাকে পড়েছে। ফলে নিন্ম আয়ের মানুষ খুবই কষ্টে দিনাতিপতি করছে।গত ৪ দিনে তারা সরকারী কোন সহায়তা পায়নি।
শাহনাজ বেগমের ছেলে রিক্সা চালক লিয়াকত খন্দকার বলেন, রিক্সা চালিয়ে খেয়ে পড়ে ছেলে মেয়ে নিয়ে ভাল ভাবেই ছিলাম। করোনা ভাইরাসের বন্ধের কারনে বিপাকে পড়েছি। কোন কাজ নেই কর্ম নেই। আমরা দিনমজুর কি করে বাঁচবো।
নিরালা আবাসিক এলাকার রিক্সা চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, রিক্সা চালিয়ে ভাল ভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে চলছিলাম। গত ৪দিন বন্ধ থাকায় কোন কাজ করতে পারছিনা। রাস্তায় কোন যাত্রি নেই । তাই অনেক কষ্টে আছি। ২দিন পর কিভাবে বাচবো আল্লাহ জানেন।
এ ব্যাপারে পালং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মকফর উদ্দিন বলেন, শাহনাজ বেগমের স্বামী আঃ হাই খন্দকারের নামে বয়স্কভাতা দেয়া আছে। করোনা উপলক্ষে আমি মাত্র ৩টি কার্ড পেয়েছি। এ কার্ড অন্যান্য গরীবের দিয়েছি।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মাহবুব রহমান বলেন,করোনা ভাইরাসের বন্ধের কারনে শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার সকাল থেকে অসহায় হতদরিদ্র নিম্ম আয়ের ৭শ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি চাল ৫ কেজি আলূ ১ কেজি লবণ,১ কেজি মশুর ডাল ১টি করে সাবান সহায়তা দেয়া হয়েছে।

স্কুল ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করলো ছাত্রলীগ সভাপতি

Design & Developed by: Ifad Technology