শরীয়তপুরের জপসা ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০ | ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ | 71 বার

শরীয়তপুরের জপসা ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে ত্রান বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ।

১৩ মে বুধবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল বেপারী ত্রান বিতরন করছেন। সূত্রে জানাযায়, ১৫ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও সেখান চাল দেয়া হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ কেজি হচ্ছে। এই ত্রানের সাথে নগদ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি।

পরিষদের একাধিক সদস্য ও ত্রান গ্রহনকারীরা অভিযোগ করেন, এখানে চাল ওজনে কম দেয়া হয়। প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল বেপারী, চেয়ারম্যান শওকত বয়াতী ও পরিষদের সচিব জুলহাস উদ্দিন নামধারী ব্যক্তিদের ত্রান না দিয়ে নিজেদের স্বজন ও তোষামোদকারীদের ত্রান বিতরন করছেন।

৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর ছৈয়াল বলেন, চেয়ারম্যান শওকত বয়াতী তিনি বেশীর ভাগ সময় ঢাকা থাকেন। পরিষদে কোন সভা করেনা এবং সদস্যদের ডাকেন না, কোন কার্যক্রম সম্পর্কে জানান না। এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দেন দরবার করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

৫নং ওয়ার্ডের সদস্য ইউনুছ বেপারী বলেন, অধিকাংশ সময় ঢাকা থাকেন।
চেয়ারম্যান কাবিখার কাজ কাদের দিয়ে করিয়েছেন তা আমরা জানি না। শোলার প্যানেল, টিউবঅয়েল ও ঘর বিতরনে টাকা নেয়ার অভিযোগ সহ ত্রানের চাল ওজনে কম দেয় হয় বলে জানান । চেয়ারম্যান মেম্বারদের কোন প্রকার মুল্যায়ন করেন না। তিনি তার নিজেস্ব লোক দিয়ে শ্লীপ বিতরন করেন।

৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রব বলে, চেয়ারম্যন, প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিব মহোদয়ের নিকট পরিষদের কার্যক্রম ও ত্রান বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এত বেশি জানতে চান কেনো আপনাকে ৫টি দেয়া হয়েছে খুসি থাকেন।

জপসা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সহসভাপতি ও ১ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মোঃ চান মিয়া আকন বলেন, পরিষদের সভায় সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে সভা দেখানো হয়। মন্ত্রীর কথাও অগ্রায্য হয়। ত্রান কার্যক্রমে ক্যাডারবাহীনিকে ব্যবহার করেন এবং স্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে ত্রান বিতরন করেন। তিনি আরও বলেন, আমি আমার স্ত্রী বর্তমানে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য। ত্রাণ দিতে পারিনি বলে জনগনকে ডেকে সভা করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছি। কারন আমরা তাদের কোন সেবা দিতে পারিনি।

এনিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল হককে জিঙ্গাস করলে বলেন, এবিষয়ে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন। সরকারের নির্দেশ মেনে আমরা ত্রান বিতরন করছি।

সেখানে উপস্থিত টেগ অফিসার নুরুন্নাহার বলেন, নগদ টাকায় এক কেজি আলু, আধা কেজি পিয়াজ সহ ১৫ কেজি চাল পরিপুর্ণ করে দেয়ার চেষ্টা করছি।

যদি এখানে দুর্নীতি করে থাকেন তা হলে মেম্বারগন জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করবেন। যার অনুলিপি
পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, দুদক চেয়ারম্যান, শরীয়তপুরের দ্বায়ীত্বপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান এর নিকট ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য প্রদান করেন।

জপসা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জুলহাস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু বলতে পারবে না। আপনারা প্যানেল চেয়ারম্যান কাছ থেকে জানেন ।

এবিষয়ে চেয়ারম্যান শওকত বয়াতি বলেন, আমি দেশে নেই। ঢাকাতে আছি আপনারা সচিবের সাথে কথা কথা বলেন।

অভিযোগের কথা জানালে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছে। তারা বি,এন পি’র লোক। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। ৭ নং ওয়ার্ডর মেম্বার আব্দুস সমাদ দুই বছর যাবৎ আরব আমিরাতে আছেন। আমি তার কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। অন্যদিকে অভিযোগকারীগন কখনো পরিষদের সভায় আসে না। তাদের স্বাক্ষর নেই।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকরতা জয়ন্তী রুপা বলেন, ইউনিয়ন পরীষদের মাসিক মিটিং শেষে আমার নিকট প্রতিবেদন দেয়ার কথা। তাতে কোন সদস্য কতটি সভায় উপস্থিত আছে তা জানানোর কথা। কিন্তু জপসার চেয়ারম্যান তা জানান নি। তাই আমি এ সম্পর্কে জানি না।

স্কুল ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করলো ছাত্রলীগ সভাপতি

Design & Developed by: Ifad Technology