অন্যরকম ঈদ উৎসব রাজনীতিবিদদের

শনিবার, ২৩ মে ২০২০ | ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ | 15 বার

অন্যরকম ঈদ উৎসব রাজনীতিবিদদের

ঈদে নেতাকর্মীদের সাথে দলের প্রধান ও সিনিয়র নেতারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সিনিয়র নেতা, সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকায় ছুটে যান ঈদ উদযাপন করতে। স্থানীয় নেতাদের সাথে মতবিনিময়সহ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে হয় নানা আলোচনা। তবে করোনাভাইরাস এবার বদলে দিয়েছে সেই চিত্র। প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জন-জীবন। যার প্রভাব পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গণেও। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে রাজনৈতিক নেতারা রয়েছেন ঘরবন্দি। ফলে এবার বিএনপিতে থাকছে না বেগম খালেদা জিয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়সহ দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের অনুষ্ঠান। অনেকটা ঘরোয়াভাবে ঈদ উদযাপন করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। যদিও বিগত দুই বছরের চারটি ঈদের চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের এবারের ঈদের আনন্দে থাকবে ভিন্নতা। কারণ দীর্ঘ ২৫ মাসেরও বেশি সময় পর গত ২৫ মার্চ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন দলটির প্রধান ও নেতাকর্মীদের হৃদস্পন্দন বেগম খালেদা জিয়া। কারামুক্ত হয়েই বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কোয়ারেন্টাইনেই রয়েছেন। তারপরও নেতাকর্মীরা মুক্ত খালেদা জিয়াকে পেয়েই ভীষণ খুশী।

ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইফতেখারুজ্জামান শিমুল বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির কারণে ম্যাডামের সাথে আমাদের সাক্ষাত হবে কিনা জানি না, কিন্তু তাকে মুক্ত পেয়েই আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সেই নির্দেশনা মেনেই আমরা কাজ করছি।

ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, দল এখন অন্য সব কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে। সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে যার জায়গা থেকে যেনো অসহায়, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আমরা সেটাই করছি। ঈদ ছাড়াও করোনা সঙ্কট যতদিন থাকবে আমরা চেষ্টা করবো সুখ, দুঃখ সকলে একসাথে ভাগ করে নিতে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিগত দিনে ঈদের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারতও করতেন। ২০১৮ সালের ফেব্রæয়ারিতে বেগম জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর সর্বশেষ ৪ ঈদে এটি সম্ভব হয়নি। তবে এবার কারামুক্ত হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি প্রায় দুই মাস ধরেই কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এছাড়া শারীরিক অসুস্থতায় এখনো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় দেখা করছেন না নেতাদের সাথেও। এবার কারামুক্ত থাকলেও ঈদের দিন কোন শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান হওয়ার বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত কোন নেতা নিশ্চিত করতে পারেননি।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, দলটির সিনিয়র নেতা, সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের বেশিরভাগই এবার ঢাকাতেই ঈদ করবেন। দু’ একজন হয়তো ইতোমধ্যে এলাকায় গেছেন বা যাবেন। কারণ নেতারা এলাকায় গেলে জমায়েত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে। তাই তারা স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মী ও মানুষের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন, প্রয়োজনে সহযোগিতা করছেন।

পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমি এলাকাতেই আছি। এখানেই গত কিছুদিন ধরে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছি। ঈদও এখানেই করবো। স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার ও সিনিয়র যুগ্ম আহŸায়ক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই ঢাকাতেই রয়েছি। এখান থেকেই নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর রাখছি। ইতোমধ্যে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ঈদ উপলক্ষে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এলাকায় গেলে না চাইলেও নেতাকর্মীদের জমায়েত তৈরি হবে। এতে সবারই ঝুঁকি বাড়বে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশে ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিনিয়র নেতারা অনেকটা ঘরবন্দী জীবন-যাপন করছেন। হাতেগোনা দু’একজন নেতা ছাড়া মাঠে দেখা মেলে না কারোরই। তবে উদীয়মান, তরুণ ও সাবেক ছাত্রনেতারা শুরু থেকেই ত্রাণ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, রয়েছেন নিজ নিজ এলাকার মানুষের পাশে। এই সঙ্কটকালকেই তারা বেছে নিয়েছেন নিজেদের চেনাতে। উজার করে দিয়েছেন নিজেদের মানবিকতা। দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে, দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী, অর্থ সহায়তা। কেউ কেউ ছুটে গেছেন অসহায়, দরিদ্র, দুঃস্থ মানুষের দ্বারে দ্বারে।

দক্ষিণ সিটিতে বিগত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ত্রাণ তৎপরতায় সবচেয়ে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বলেন, ঈদের দিনে বাবার কবর জিয়ারত করবো। স্থানীয় নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর নিবো। এছাড়া আর তেমন কোন কর্মসূচি নেই। দোয়া করি আল্লাহ যেনো করোনাভাইরাসকে তুলে নেন। সবকিছু যেনো আগের মতোই স্বাভাবিক হয়ে যায়।

নেত্রকোণা জেলা বিএনপির আহŸায়ক ডা. আনোয়ারুল হক গতকাল পর্যন্ত নিজ এলাকায় থেকে নেতাকর্মী ও অসহায় মানুষের জন্য ঈদ উপহারসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকায় পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করে আবারও এলাকায় যাবেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল আশার বলেন, নেতাকর্মীসহ সকলের ঝুঁকির কথা চিন্তা করেই আমরা যার যার ঘরে ঈদ উৎসব পালন করবো।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে কোন কর্মসূচি নেই। সার্বিক পরিস্থিতির কারণেই এখন কোন অনুষ্ঠান বা নেতাকর্মীদের জমায়েত হোক এমন কিছু করা যাচ্ছে না। দলের নেতারা কে কোথায় ঈদ করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশিরভাগ সিনিয়র নেতা ঢাকাতেই রয়েছেন। এছাড়া যে যার সুবিধা মতো হয়তো ঈদ করবেন। এ বিষয়ে দলের কোন নির্দেশনা নেই।

স্কুল ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করলো ছাত্রলীগ সভাপতি

Design & Developed by: Ifad Technology