ঢাকা, সোমবার, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সুপার শপে ঝুঁকছেন ক্রেতারা

‘সর্বাত্মক লকডাউন’ চলার সময় মুদি দোকান, মাছ-মাংস ও কাঁচাবাজারের পাশাপাশি সুপার শপে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। মূলত সাধারণ বাজারের চেয়ে সুপার শপগুলোতে সামাজিক দূরত্বসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই করোনা ঝুঁকি এড়াতে রাজধানীর সুপার শপগুলোতে ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

বুধবার রাজধানীর বাসাবো, দক্ষিণ বনশ্রী, খিলগাঁও, মালিবাগ, মগবাজারে অবস্থিত স্বপ্ন, আগোরা ও মিনা বাজার সুপার শপ ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে, রাজধানীর দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তাই এই দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহের জায়গা এখন সুপার শপ।

 

তবে কোনো কোনো সময় ক্রেতাদের চাপে সুপার শপে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সুপার শপ কর্তৃপক্ষ করোনার ঝুঁকি এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

সুপার শপগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগের চেয়ে সরাসরি ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি অনেক ক্রেতা টেলিফোনে কিংবা অনলাইনে অর্ডার দিয়ে পণ্য কিনছেন। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এড়াতেও সচেতন শ্রেণির মানুষ এখন সুপার শপের দিকে ছুটছেন।

দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার স্বপ্ন সুপার শপে দায়িত্বরত বিক্রেতা মো. সুমন বলেন, ‘সাধারণ বাজারে করোনার সময়ে একসঙ্গে সব পণ্য কিনতে পারেন না ক্রেতারা। তাই এখন বেশি মানুষ সুপার শপে আসছে।’

বড় মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকায় অবস্থিত আগোরা সুপার শপের ক্রেতা রফিকুল আলম বলেন, ‘মাছ, মাংস, কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানে সামাজিক দূরত্বকে তোয়াক্কা করেন না ক্রেতারা। গাদাগাদি করে কেনা-কাটায় ব্যস্ত তারা। সে তুলনায় সুপার শপ অনেকটা ব্যতিক্রম। এখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। এছাড়া বাইরের দোকানগুলোর চেয়ে সুপার শপে এখন সস্তায় প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়।’

মগবাজারে নিউ ইস্কাটন রোডে অবস্থিত মিনা বাজার সুপার শপের ক্রেতা ফারহান ফেরদৌস বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে বাজারে ভিড়ের মধ্যে গিয়ে ঝুঁকি বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই। তাই এখন সাধারণ মানুষও সুপার শপমুখী হচ্ছেন।’

প্রসঙ্গত, ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ৮ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচা-কেনা করা যাবে।