ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডের ঘটনায় মালিকপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বিভাগীয় কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটি মালিকপক্ষের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সদস্যরা বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

তদন্ত কমিটি বলেছে, সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় মালিকপক্ষের অবহেলা ছিল। এ দুর্ঘটনার জন্য মালিকপক্ষ ও তদারকি সংস্থারও গাফিলতি রয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুরে অবস্থিত বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি সুপারিশ রাখা হয়েছে জানিয়ে কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, আমরা দুর্ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়েছি এবং কারা এর জন্য দায়ী তা নির্ধারণের চেষ্টা করেছি। এটাকেই চূড়ান্ত বলা যাবে না। এ ঘটনায় বৃহত্তর তদন্তও হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা তদন্তে একেবারে সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করেছি। সেটি নিয়ে চার পৃষ্ঠার প্রতিবেদন আছে। এখন কারণগুলো ব্যাখা করতে গেলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে। অযথা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হবে।

বিভাগীয় কমিশনার আশরাফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনার পর সরকারের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমরা এ প্রতিবেদন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে পাঠাবো। সেখান থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর একের পর এক বিস্ফোরণে তা ছড়িয়ে পড়ে। ডিপোতে থাকা রাসায়নিকের কারণে ছড়িয়ে পড়া ঐ আগুন ৮৬ ঘণ্টা পর বিভিন্ন বাহিনীর চেষ্টায় নেভানো হয়। ঐ ঘটনায় এ পর্যন্ত অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।

দুর্ঘটনার পর মোট ৬টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর এবং বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিল।