ঢাকা, বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, পানিবন্দি চার হাজার পরিবার

অতিরিক্ত বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলসহ নিন্মাঞ্চলের প্রায় চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। আর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিস্তার তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা কবলিত লোকজন খোলা আকাশের নিচে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

পানিবন্দি প্রায় শতাধিক স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষীটারি ইউনিয়নের শংকরদহ থেকে কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা পর্যন্ত একটি বাঁধ নির্মাণ করা গেলে নদী তীরবর্তী এসব মানুষের কষ্ট দূর হতো।

কোলকোন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনও লোকজন তাদের খোঁজ নেননি।’

আক্ষেপ করে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে অনেক বার বলেছি, তিস্তা নদীর ডান তীরে একটা শক্ত বাঁধ নির্মাণের জন্য। তারা আমাদের কথা রাখেননি। বন্যা এলে তারা শুধু আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেন না।’

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি বলেন, ‘বন্যায় তলিয়ে গেছে আগাম জাতের আমন ক্ষেত। আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে ধানগুলো ঘরে তোলা যেত। কিন্তু সেই ধান এখন পানির নিচে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়নি। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, তিস্তা নদীর ডান তীরে একটি শক্ত বাঁধ নির্মাণ করা হোক।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’