ঢাকা, বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে এই লিজ ট্রাস

ঋষি সুনাককে হারিয়ে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন লিজ ট্রাস। নতুন নির্বাচিত এই প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে কনজারভেটিভ পার্টির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তার পুরো নাম মেরি এলিজাবেথ ট্রাস। ১৯৭৫ সালের ২৬ জুলাই ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন কেনেথ এবং প্রিসিলা মেরি ট্রাসের ঘরে জন্মগ্রহণ। ছোটবেলা থেকেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন এলিজাবেথ নামে। তার বাবা ছিলেন লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক। মা-ও ছিলেন শিক্ষক। ট্রাসের বয়স যখন চার বছর, তখন তার পরিবার চলে আসে স্কটল্যান্ডে।

অক্সফোর্ডের মেরটন কলেজে পড়াশোনা করেছেন ট্রাস। সেসময় লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সক্রিয় ছিলেন তিনি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রেসিডেন্ট এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট যুব ও ছাত্রদের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন লিজ ট্রাস। তবে ১৯৯৬ সালে স্নাতক হওয়ার পর যোগ দেন কনজারভেটিভ পার্টিতে।

বামপন্থি পরিবারে জন্ম নেয়া ট্রাস প্রথমে লিবারেল ডেমোক্র্যাট ছিলেন। তবে ২০১০ সালে তিনি কনজারভেটিভ পার্টি থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ট্রাস ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ছিলেন। তবে ব্রিটিশরা ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিলে তিনি দ্রুতই ব্রেক্সিটের কট্টর সমর্থক হয়ে উঠেছিলেন। এরপর ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন লিজ ট্রাসকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে গড়া প্রতিনিধি দলের প্রধান করেছিলেন। গতবছর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ট্রাস।

লিজ ট্রাস যেসব পোশাক পরেন এবং ছবি তোলার জন্য যেসব জায়গা বেছে নেন, যেমন এস্তোনিয়ায় গিয়ে ট্যাঙ্কে এবং মস্কোয় গিয়ে পশমের টুপি পরে ছবি তোলা, ইত্যাদি কারণে অনেকে তাকে প্রথম নারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গে তুলনা করেন।

ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি রাশিয়ার কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

বেশ কিছু কেলেংকারির কারণে গত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন বরিস জনসন। এরপরই কনজারভেটিভ দলের নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটার ছিলেন কনজারভেটিভ দলের প্রায় দুই লাখ সদস্য। ভোটে ট্রাস সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাককে পরাজিত করেন। সুনাক জিততে পারলে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী হতেন। মোট ভোট পড়েছে ৮২.৬ শতাংশ। ট্রাস পেয়েছেন ৮১,৩২৬ ভোট। সুনাক পেয়েছেন ৬০,৩৯৯টি।

ঐতিহ্য মেনে বিজয়ী প্রার্থী লিজ ট্রাস মঙ্গলবার রানীর সাথে দেখা করবেন। রানী তাকে সরকার গঠন করতে বলবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ রাজকীয় রেকর্ডে লিপিবদ্ধ করা হবে।

রানীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিক নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গেই লন্ডনে ফিরে যাবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ হবে।