ঢাকা, বুধবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কাঁদছে বৃটেন, কাঁদছে বিশ্ব…

২০১৫ সালেই রানি ভিক্টোরিয়ার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তার আগে এত দীর্ঘ সময় কেউ ব্রিটেনের সিংহাসনে বসেননি। ব্রিটেনের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসাবে তার কার্যকালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছেন ১৫ জন। আর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে বসেছেন ১৪ জন। ব্রিটেনবাসীর কাছে ‘রানি আর রাজতন্ত্র এখন সমার্থক’। এ কথা মাস কয়েক আগে বলেছিলেন খোদ রাজতন্ত্রেরই কট্টর সমালোচক গ্রাহাম স্মিথ। ভুল যে বলেননি, প্রমাণ করে দিয়ে গেলেন রানিই। তার মৃত্যুতে ব্রিটেনের রাজ-ঐতিহ্য আজ যেন অনেকটাই ফিকে।
৯৬ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার বিকেলে বালমোরাল ক্যাসেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এ সময় তার পাশে ছিলেন প্রিন্স চার্লস সহ তার সব সন্তান, রাজপরিবারের বেশির ভাগ সদস্য। তাদের সামনে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রানী।

ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় সিংহাসনে থাকার ঐতিহাসিক রেকর্ড সৃষ্টি করে তিনি শুধু বৃটেন নয়, সারাবিশ্বের মানুষের কাছে ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার মৃত্যুর খবরে বৃটেনের সঙ্গে কাঁদছে পুরো বিশ্ব। এর আগে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। এ নিয়ে বিবৃতি দেয় বাকিংহাম রাজপ্রাসাদ। বৃটিশ মিডিয়া বলছে, রানীর স্বাস্থ্যগত বিষয়ে রাজপ্রাসাদের বিবৃতি উচ্চমাত্রায় অস্বাভাবিক। এ থেকে আন্দাজ করা যায়, অবস্থা খুবই গুরুতর।

খবর পেয়ে রানীর সব সন্তান, নাতি প্রিন্স উইলিয়াম ও রাজপরিবারের সদস্যরা ছুটে যান স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসেলে। সেখানে রানীর শয্যাপাশে অবস্থান নেন তারা। রানীর চিকিৎসকরা ছুটে যান প্রাসাদে। তাকে রাখা হয় তাদের নজরদারিতে। কিন্তু কোনো কিছুতেই আর ধরে রাখতে পারেনি রানীকে। সবার উপস্থিতিতে তিনি চিরদিনের জন্য চোখ বন্ধ করেন।

এর আগে রানীর অসুস্থতার খবরে তাৎক্ষণিক টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। ওই সময় পার্লামেন্টে জ্বালানি ইস্যুতে বিতর্ক চলছিল। অসুস্থতার খবর শুনে রানীর জন্য প্রার্থনা জানান আর্চবিশপ অব ইংল্যান্ড। খবর জানার পর উদ্বিগ্ন দেশবাসী ছুটে যান বালমোরাল প্রাসাদের বাইরে। তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।