ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কালুরঘাট সেতু দিয়েই ট্রেন ছুটবে কক্সবাজার

কালুরঘাট সেতু। যা স্থানীয়ভাবে কালুরঘাটের পোল নামে পরিচিত। ১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে কর্ণফুলী নদীর ওপর এ সেতুটি নির্মিত হয়। যেটির বয়স এখন ৯০ বছরের বেশি। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় দুই দশক আগে ২০০১ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে রেলওয়ে। পরে ২০১১ সালে এটিকে চূড়ান্তভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একদল গবেষক।
এবার জানা গেছে ৯০ বছরের পুরোনো এ সেতুকে মেরামত করে এটি দিয়েই ট্রেন যাবে কক্সবাজার। আর সংস্কার কাজে পরামর্শ দেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কালুরঘাট সেতুর মেরামত শেষ হবে। এরপর এ সেতু দিয়েই ছুটে চলবে কক্সবাজার রুটের ট্রেন। শুরুর দিকে প্রতিদিন একটি করে ট্রেন চলাচল করবে। মেরামতের ব্যাপারে শিগগিরই বুয়েটের সঙ্গে চুক্তি করবে রেলওয়ে। এরপর মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবে বুয়েট। তাদের সহযোগিতা করবে ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ সম্ভব নয়। ফলে বুয়েটের পরামর্শে সেতুটি মেরামত করে ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পরামর্শ ফি বাবদ আট কোটি ৬০ লাখ টাকা নেবে বুয়েট।

সংশ্লিষ্টরা আরো জানিয়েছেন, নতুন নকশায় কালুরঘাট সেতু তৈরিতে সম্মতি দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন নকশা চূড়ান্ত হওয়ায় এখন প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তৈরি করা হবে। এরপর কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) সঙ্গে ঋণ চুক্তি শেষে একনেকে উঠবে। একনেকে অনুমোদনের পর টেন্ডার শেষে ঠিকাদার নিয়োগ হবে।

কালুরঘাট সেতুর ফোকাল পারসন মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, সব প্রক্রিয়া শেষ করতে ২০২৩ সাল পুরো লেগে যাবে। ২০২৪ সালের শুরুতে আমরা সেতুর কাজ শুরু করতে পারবো। দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ। এরইমধ্যে প্রায় ৬০ কিলোমিটার রেললাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মফিজুর রহমান বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত। ২০২৩ সালের মধ্যে আমরা সব কাজ শেষ করে ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু করতে পারবো বলে আশা করছি।

বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী আবু জাফর মিয়া বলেন, বুয়েটের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। তারা স্টাডি ও ডিজাইন করবেন। পুরোনো কালুরঘাট সেতু মেরামত করে সেটি দিয়েই কক্সবাজার রুটের ট্রেন চলবে।