ঢাকা, শনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অবৈধ অভিবাসী নিয়ে বিবাদে ইতালি-ফ্রান্স

অবৈধ অভিবাসী গ্রহণ নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি ও ফ্রান্স। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও মন্ত্রীদের মধ্যে দোষারোপের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
ভূমধ্যসাগর থেকে চ্যারিটি জাহাজে উদ্ধারকৃত অবৈধ অভিবাসীদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ফ্রান্সের কূটনৈতিক বিতর্কে জেরে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইতালি প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।

তিনি বলেন, আমি ফ্রান্স সরকারের পক্ষ থেকে আক্রমণাত্বক প্রতিক্রিয়ায় আহত হয়েছি। আমি এটিকে অপরিপক্কতা ও অন্যা হিসেবে দেখছি।

ফ্রান্সের পক্ষ থেকে শরর্ণার্থী গ্রহণের পরিকল্পনা বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় মেলোনি বলেন, ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টারত অবৈধ অভিবাসীদের ব্যবস্থাপনার জন্য ইতালি এক দায়ী হতে পারে না। যখন ইউরোপীয় হিসাবে প্রতিশোধের বিষয়টি আসে তখন কোনো কিছুই কাজ করে না।

তিনি আরো বলেন, অভিবাসী-স্থানান্তর প্রকল্পগুলোতে একইভাবে ব্যবস্থা নিতে ফ্রান্সের মতো ইউরোপের অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানাই।

ফ্রান্সের চ্যারিটি এসওএস মেডিটার‌্যানি পরিচালিত চ্যারিটি গ্রুপ জানায়, নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য একটি স্থান বারবার চেয়ে রোমের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ অউশেন ভাইকিংস। সেই জাহাজ শুক্রবার ফ্রান্সের তৌলন বন্দরে অবতরণ করেছে। জাহাজটিতে ২৩০ জন অবৈধ অভিবাসী ছিলেন যারা তিন সপ্তাহ আগে উদ্ধার হন।

রোমের কাছে নিরাপদ বন্দরে অবতরণের অনুরোধের পর ফ্রান্স ও ইতালির মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। তবে এর আগে, তিনটি জাহাজকে নিজেদের বন্দরে অবতরণের অনুমতি দিয়েছিল ইতালি।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার নিজেদের বন্দরে ২৩০ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিয়ে চলা জাহাজকে অবতরণের অনুমতি দেয় ফ্রান্স।

অভিবাসীদের নামানোর পর ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ড্যারম্যানিন বলেন, গত জুলাইয়ে পারস্পরিক নির্ভরতার নীতি অনুযায়ী উদ্ধার করা অভিবাসীদের ফ্রান্স ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।

অউশেন ভাইকিংসকে ইতালির সরকারের গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য আচরণ বলে উল্লেখ করেন ড্যারম্যানিন।

এর পাল্টা জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের সমস্যা সমাধান ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি ইতালিতে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। আমি ভাবছি, মানবপাচারকারীদের একেবারে বিচ্ছিন্ন করাই উচিত।

ফ্রান্সের অবৈধ অভিবাসী ভাগাভাগির জবাবে মেলোনি জানান, এ বছর ৯০ হাজার অভিবাসীকে গ্রহণ করেছে রোম।

তিনি বলেন, আমাকে কি রাগান্বিত করে? ইতালি কী বন্দরে অবতরণের সুযোগ দেবে… এটিতো কোনো চুক্তিতে লেখা ছিল না।