ঢাকা, শনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পুতিন ঘনিষ্ঠ ১৪ ব্যক্তি ও ২৮ প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে ১৪ ব্যক্তি ও ২৮ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন এ তথ্য জানান। যদিও এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

ইয়েলেন বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ আরো দীর্ঘ করার পরিকল্পনা ব্যাহত করতে ও দেশটিতে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কোনো কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় রয়েছে তার বিস্তারিত পরদিন জানানোর কথা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইউক্রেনে অর্থ সহায়তা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সহায়তা বাবদ ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের পাশাপাশি, অতিরিক্ত সাড়ে ৪০০ কোটি ডলারের বেসামরিক সহায়তার বিষয়টি কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করেছে বাইডেন প্রশাসন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার এ তালিকায় রয়েছে, রাশিয়ায় অস্ত্র সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এমনকি রাশিয়ার সামরিক অস্ত্রগুলোর কলকব্জা নির্মাণকারী মার্কিন কোম্পানিগুলো।

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর মতে, বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য যে জিনিসটি সবার আগে দরকার, তা হলো, যুদ্ধের অবসান ঘটানো। যুদ্ধ সমাপ্ত ঘোষণা করা রাশিয়ার নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, যদি দখলকৃত জায়গাগুলো ফিরে পাওয়া যায় ও ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি এ যুদ্ধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত হয়, তাহলে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি আছেন। এদিকে, বালিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সাক্ষাৎকারে ইয়েলেন বলেছিলেন, শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করা যেতে পারে। তবে ইউক্রেন ও ?পুরো বিশ্বের যে ক্ষতি রাশিয়া করেছে, তা বিবেচনায় কিছু নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও অব্যাহত থাকা উচিত। মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলনের মূল আলোচ্য সূচিতে রয়েছে—ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও সমাধানের উপায়।

এদিকে রুশ দখলদারিত্বে থাকাকালে খেরসনে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় পুলিশের তরফে আট মাসের দখলদারিত্বের সময়ে রুশ বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ৯ নভেম্বর রুশ সেনাদের খেরসনের পশ্চিম তীর থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। সেপ্টেম্বরে যে চারটি ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করে খেরসন সেগুলোর একটি। ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার দখল করা একমাত্র প্রাদেশিক রাজধানী এটি। ডিনিপ্রো নদীর পশ্চিম তীরে এই শহরটির অবস্থান। রুশবাহিনী শহরটি ছেড়ে যাওয়ার পর ইতিমধ্যেই ইউক্রেনীয় সেনারা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ফের মাঠে নেমেছে পুলিশ সদস্যরাও। জাতীয় পুলিশ প্রধান ইহোর ক্লাইমেনকো বলেছেন, প্রায় ২০০ জন কর্মকর্তা শহরে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্থানে চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ নথিভুক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ সদস্যরা।