ঢাকা, শনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শীতে হুমকিতে ইউক্রেনবাসীর জীবন

টানা ৯ মাস ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এরই মধ্যে অধিকৃত খেরসন থেকে পিছু হটেছে রুশ সেনারা। ইউক্রেনের জন্য খেরসন পুনরুদ্ধার একটি বড় অর্জন হলেও আসন্ন শীত দেশটির জন্য মহাবিপদের কারণ হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এবারের শীতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র সংকটে হুমকির মুখে পড়তে পারে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিকের জীবন। সংস্থাটি আরো বলেছে, নিরাপত্তা ও উষ্ণতার খোঁজে আসন্ন শীতে অন্তত ৩০ লাখ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে পারেন। সোমবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে ডবিউএইচওর ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক ড. হ্যান্স হেনরি পি ক্লুজ বলেন, রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনের প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে দেশটির অন্তত ১ কোটি মানুষ বিদ্যুত্হীন অবস্থায় রয়েছে। এই শীতে এসব অসহায় মানুষের একমাত্র লক্ষ্য হবে যেভাবেই হোক বেঁচে থাকা।’

শুধু তাই নয়, ডব্লিউএইচওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত ৭০৩টি হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন শীতে ইউক্রেনের কিছু কিছু এলাকার তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। এমন অবস্থায় দেশটির বিদ্যুৎ উত্পাদনকেন্দ্র ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়বেন ইউক্রেনীয়রা।

ড. হ্যান্স হেনরি পি ক্লুজ বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও মূল শহরগুলোর জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় রাশিয়া। এর ফলে ইউক্রেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন সবচেয়ে বাজে সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। মৌলিক চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি, পানি ও বিদ্যুতের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। ডা. ক্লুজ জানান, ইউক্রেনের অধিকাংশ হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডগুলোতে ইনকিউবেটর প্রয়োজন। ব্লাড ব্যাংকের জন্য রেফ্রিজারেটর ও নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ভেন্টিলেটর প্রয়োজন। আর এগুলো চালু রাখতে দরকার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি বা বিদ্যুৎ সরবরাহ।

তিনি বলেন, দোনেস্কের ১৭ হাজার এইচআইভি রোগীর জন্য তিনি খুবই চিন্তিত। কারণ, খুব শিগিগর এসব রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে। ডবিউএইচওর আঞ্চলিক এ পরিচালক বলছেন, দোনেস্কের বেশির ভাগ অংশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকায় ঐসব অঞ্চলে জরুরিভাবে মানবিক স্বাস্থ্য করিডোর স্থাপন করা দরকার।

ইউক্রেনে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার মৌলিক টিকাদনের হার কম হওয়ায় লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিকের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। তাই এই শীতে দেশটিতে করোনার সংক্রমণও বাড়তে পারে।