ঢাকা, শনিবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক অর্থনীতি আগামী বছর আরো মন্থর হবে

আগামী বছর বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরো মন্থর হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে উন্নত দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)। সংস্থাটি বলেছে, চলমান পরিস্থিতিতে ধরণীর জন্য কোনো ভালো খবর দেওয়া যাচ্ছে না। চলতি বছরে অর্থনীতির খারাপ অবস্থাতো যাচ্ছেই, সেই সঙ্গে বাড়তি দুশ্চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে সামনের বছর। সে যাত্রায় বৈশ্বিক জিডিপির প্রবৃদ্ধি আরো কমবে। অবশ্য এর কারণ হিসাবে উচ্চ সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

প্যারিসভিত্তিক এ সংস্থাটি বলেছে, এবার বৈশ্বিক জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৩ সালে এটি আরো কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াবে। ওইসিডি মহাসচিব ম্যাথিয়াস কোরম্যান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এটা সত্য যে আমরা দুনিয়া জুড়ে মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছি না। তবে এটি খুব চ্যালেঞ্জিং একটি দৃষ্টিভঙ্গি। আমি মনে করি না যে, ২ দশমিক ২ শতাংশ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কারো জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে।’ ৩৮টি সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত ওইসিডি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে। সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ হাজির করে থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে। এর ফলে ওইডিসির সদস্য দেশগুলোকে তাদের ইকোনমিক আউটপুটের ১৮ শতাংশ জ্বালানিতে ব্যয় করতে হয়েছে। এটি পুরো দুনিয়াকে জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। জ্বালানির উচ্চ দাম মুদ্রাস্ফীতিকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

ওইসিডি মহাসচিব ম্যাথিয়াস কোরম্যান বলেন, বহু দেশে সরকার সহায়তামূলক পদক্ষেপ নিলেও পরিবারগুলোর প্রকৃত আয় কমেছে। ওইডিসি বলছে, উচ্চ সুদের হারসহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম আক্রমণাত্মক পথে হেঁটেছে। তারা এ বছর ছয়বার বেঞ্চমার্ক রেট বাড়িয়েছে। কিন্তু এর উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি মার্কিন অর্থনীতিকে প্রায় স্থবির করে দেবে। ২০২১ সালে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৯ শতাংশ। তবে ওইডিসি বলছে, এ বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ। বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদের আশঙ্কা, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র অন্তত একটি হালকা মন্দায় প্রবেশ করবে। তবে ওইসিডির তরফে সুনির্দিষ্টভাবে এমন কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়নি। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পেলেও আগামী দুই বছরও এটি ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকবে।

ওইসিডি বলছে, আগামী বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে এশিয়ার উদীয়মান বাজারের দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। সংস্থাটির ধারণা, আগামী বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির তিন-চতুর্থাংশই আসবে এই অঞ্চলের দেশগুলো থেকে। স্থবির হয়ে পড়বে মার্কিন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনীতি।

ভারতের অর্থনীতি এই বছর ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পরের বছর ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বছর চীনের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে এটি ৪ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হবে। করোনার পাশাপাশি আবাসন খাতের দুর্বলতা দেশটির বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে।