ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এ বছর মন্দার কবলে পড়বে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ দেশ

এ বছর বিশ্ব অর্থনীতি খারাপ সময় পার করবে এমন পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা। কিন্তু সংকট কতটা গভীর হবে সেটা নিয়েই উদ্বেগ ছিল সবার। বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের এই মন্দার ধাক্কা উন্নয়নশীল বিশ্বেও পড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, নতুন বছরেই মন্দার কবলে পড়বে বিশ্বের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ দেশ। যার প্রভাব পড়বে সারা বিশ্বে। যেসব দেশ মন্দার কবলে পড়বে না, সেসব দেশের সাধারণ মানুষও এর ধাক্কা অনুভব করবে।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, নতুন বছর তথা ২০২৩ সালের বিশ্ব অর্থনীতি গত বছরের তুলনায় কঠিন সময় পার করবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনীতির গতি এরই মধ্যে মন্থর হয়ে গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুদ হার বেড়ে যাওয়া, চীনে নতুন করে করোনা ভাইরাসের বিস্তার বিশ্ব অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ দেশের অর্থনীতি চলতি বছর মন্দার কবলে পড়তে পারে বলে সম্প্রতি সিবিএস নিউজের এক অনুষ্ঠানে আইএমএফের প্রধান এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। এর আগে গত অক্টোবরে প্রকাশিত আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছিল ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে আশঙ্কা।

আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, চলতি বছর যেসব দেশ মন্দার কবলে পড়বে না, সেসব দেশের মানুষও মন্দার ধাক্কা অনুভব করবে। ইউরোপ কোনোভাবেই মন্দা এড়াতে পারবে না। আর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মন্দার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি সংকুচিত হওয়া মানে চীন, ভিয়েতনামসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তার প্রভাব পড়বে। কারণ, এসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য আমদানির চাহিদা কমে যাবে। এ ছাড়া উচ্চ সুদের কারণে ব্যবসায়ীদের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা কমে যাবে। এর ফলে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগে নিরুত্সাহিত হবেন। ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের অর্থনীতির চাকা মন্থর হওয়ায় গেল বছরের তুলনায় ২০২৩ সাল ‘আরো কঠিন’ হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে যুদ্ধ এবং মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামাল দিতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়ায় অক্টোবরে আইএমএফ ২০২৩-এ আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কম হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল। এরপর চীন তার ‘শূন্য কোভিড নীতি’ বদলে ফেলে অর্থনীতি সচল করার কাজ শুরু করে। অবশ্য বিধিনিষেধ তুলে ফেলায় দেশটিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

আইএমএফ প্রধান মনে করেন, পরের কয়েকটি মাস চীনের জন্য কঠিন যাবে। চীন, ঐ অঞ্চল এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে এর প্রভাব হবে নেতিবাচক। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএমএফের সদস্য দেশের সংখ্যা ১৯০। আইএমএফ সদস্য দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে কাজ করে। আইএমএফের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে আগেভাগে সতর্ক করা। কয়েক দিন আগে প্রকাশিত তথ্যে তারা ২০২২ সালের শেষে চীনা অর্থনীতির দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করেছিল।