ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুদান থেকে পালাতে পারে ৮ লাখ মানুষ : জাতিসংঘ

সুদানে চলমান সংঘাতের ফলে ৮ লাখের বেশি মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পারে বলে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা বলেছে জানিয়েচে। সুদানের নাগরিক এবং দেশটিতে অস্থায়ীভাবে বসবাসকারী হাজার হাজার শরণার্থী আছে এই দলে। দেশটির লড়াইরত দুই বাহিনী একদিন আগে আবারও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছে। তবে এরপরও সুদানে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। আর এই পরিস্থিতিতেই জাতিসংঘের এই সতর্কতা সামনে এলো।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে ইউএনএইচসিআরের শরণার্থী বিষয়ক সহকারী হাই কমিশনার রাউফ মাজউ বলেছেন, ‘সকল সংশ্লিষ্ট সরকার এবং অংশীদারদের সাথে পরামর্শ করে আমরা ৮ লাখ ১৫ হাজার লোকের একটি পরিসংখ্যানে পৌঁছেছি যারা সুদান থেকে সাতটি প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যেতে পারে।’ এছাড়া সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে ইতোমধ্যেই প্রায় ৭৩ হাজার মানুষ সুদান ছেড়েছেন বলেও তিনি জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ যে ৮ লাখ মানুষের সুদান ছেড়ে পালানোর আশঙ্কা করছে তার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার সুদানি নাগরিক। বাকিরা দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে বসবাসরত।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল থেকে সুদানে সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান এবং আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগলোর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। লাখ লাখ সুদানি নাগরিক যুদ্ধ থেকে পালাতে চাইলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় স্ফীত ব্যয় বহন করতে অক্ষম। এই কারণে খাদ্য ও পানি ঘাটতি এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেও নিজেদের বাড়িতেই কার্যত অবস্থান করছেন তারা।

গত শনিবার রাতে খার্তুম শহরের মাঝে প্রবল লড়াই হয়েছে। তবে রবিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা খার্তুমের পশ্চিমে একটি আধা সামরিক বাহিনীর কনভয়কে ধ্বংস করেছে। আধা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের ওপর গোলা মারা হচ্ছে, বিমান হামলাও চলছে। সুদানে এই নিয়ে বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতিতে একমত হলো দুই পক্ষ। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দুই পক্ষ একে অন্যকে আক্রমণ করেছে।

সংঘর্ষ শুরুর পর জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সাহায্য সংস্থা ইতোমধ্যেই সুদানে তাদের পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বলেছে, যুদ্ধের শুরুতে কর্মী নিহত হওয়ার পরে সোমবার নিরাপদ এলাকায় তারা আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

সূত্র : আলজাজিরা