ঢাকা, বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তিন উপজেলায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় থমকে গেছে বান্দরবানের পর্যটন শিল্প

বান্দরবানের তিন উপজেলায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৫ শতাধিক ট্যুরিস্ট গাইড, বোট চালক ও পরিবহন শ্রমিক। জীবিকার তাগিদে অনেকে পেশা বদলেছেন। শুধু তাই নয়, পর্যটক না আসায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজগুলো। এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য পাহাড়কন্যা বান্দরবান। এ জেলার রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় আছে দেশের সুউচ্চ পাহাড় কেওক্রাডং, তাজিংডং, রেমাক্রী, নাফাখুম, দেবতাখুম, বগা লেক, রিঝুক ঝর্ণাসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু ছুটে যান এসব পর্যটনকেন্দ্রে।

দুর্গম পাহাড়ে আগত পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করতে তিন উপজেলায় ট্যুর গাইড, নৌ শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিকসহ হোটেল-মোটেলে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয় পাঁচ শতাধিক যুবক। কিন্তু, পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের কারণে গত ১৮ অক্টোবর থেকে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রশাসন। এর পর থেকে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে যেতে পারছেন না পর্যটকরা। এতে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে তিন উপজেলার পর্যটন স্পটগুলো। কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ট্যুর গাইড, নৌ শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিকসহ হোটেল-মোটেলের কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে পর্যটক না আসায় জীবিকার তাগিদে পর্যটনের সঙ্গে জড়িত অনেকেই পেশা বদলে দিনমজুরি, জুমচাষসহ বিভিন্ন কাজে যোগ দিয়েছেন। অনেকে বেকার অবস্থায় পরিবার নিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।

রুমা উপজেলার ট্যুর গাইড ঋত্বিক বড়ুয়া বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের সেবা দিয়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। কিন্তু, দীর্ঘ ৬ মাস ধরে রুমা উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা কর্মহীন হয়ে পড়েছি। বেকার অবস্থায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে দিনমজুরিসহ বিভিন্ন পেশায় চলে গেছেন। আমরা চাই, দ্রুত পাহাড়ের সমস্যা সমাধান করে পর্যটনকেন্দ্রগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।

রোয়াংছড়ি উপজেলার ট্যুর গাইড সমিতির সভাপতি পলাশ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আমরা অনেক কষ্ট আছি। আমাদের দেখার কেউ নেই। ৬ মাস ধরে আমরা বেকার। এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য পাইনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে আমাদের অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখা কষ্টাসাধ্য হবে। তাই প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন, যত দ্রুত সম্ভব পাহাড়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আবার বান্দরবানে পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হোক।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বান্দরবানের অনেক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত। কয়েক মাস ধরে বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখানকার পর্যটন শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখানে শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে ২ হাজারেরও অধিক কর্মচারী আছেন। শুধু তাই নয়, পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক আজ বেকার, অসহায়, কর্মহীন অবস্থায় আছে। এভাবে চলতে থাকলে এখানকার অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই, বান্দরবানে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের জীবিকার কথা চিন্তা করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানাই।