ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢাকাসহ সারা দেশে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহে বিপাকে শ্রমজীবীরা

রাজধানীসহ সারা দেশে আবারও চলছে তাপপ্রবাহ। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা নগরবাসীর। তপ্ত রোদে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবীরা। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা নগরবাসীর, রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে পড়েছেন ক্লান্ত রিকশাচালক। ছবি: সময় সংবাদ
গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা নগরবাসীর, রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে পড়েছেন ক্লান্ত রিকশাচালক। ছবি: সময় সংবাদ
সানবীর রূপল

৩ মিনিটে পড়ুন
সোমবার (৮ মে) আগামী তিন-চার দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহে আবারও স্বস্তির বৃষ্টির অপেক্ষা। দু-তিন দিন ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে বেড়েছে তাপমাত্রা। এই উত্তাপে দিনের বেলায় রাস্তায় চলাচল মুশকিল হয়ে পড়েছে। কাজের তাগিদে তবু যারা বের হচ্ছেন, সূর্যের খরতাপ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করছেন। ঠান্ডা পানি, ডাবের পানি পান করে অনেকে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করছেন। পথচারীরা বলছেন, অন্য বছরের চেয়ে এবার গরম অনেক বেশি।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এমন তাপপ্রবাহ থাকবে আরও কয়েক দিন। হালকা বাতাস থাকলেও রাজধানীর তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনায় গরমের তীব্রতা আরও বেশি।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করে আগামী কয়েক দিনে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির প্রাথমিক ধাপই হচ্ছে লঘুচাপ।

অন্যদিকে দেশ এখন একেবারে বৃষ্টিহীন। বেড়েই চলেছে তাপমাত্রা, দেশের ৪৩ জেলায় বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গরমে ফের দুর্বিষহ হয়ে উঠছে জনজীবন।

সকালে পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ নিয়ে অশনি সংকেত, আঘাত হানছে বাংলাদেশে!

প্রাকৃতিক নানা কারণে সমুদ্রের কোনো স্থানে কেন্দ্রাভিমুখী ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল বা লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে এ ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চলটি শক্তি সঞ্চয় করে (বাতাসের গতি বৃদ্ধি পেয়ে) সুস্পষ্ট লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও শেষে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, সুস্পষ্ট লঘুচাপ হচ্ছে ঘণ্টায় ৩১ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগের ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল। নিম্নচাপ হচ্ছে একটি ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চল, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪১ থেকে ৫০ কিলোমিটার। গভীর নিম্নচাপের ক্ষেত্রে বাতাসের গতিবেগ ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে।

কোনো ঝোড়ো হাওয়ার অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটারের মধ্যে হলে তাকে বলে ঘূর্ণিঝড়।

লঘুচাপটি পর্যায়ক্রমে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মোখা’, এটি ইয়েমেনের দেয়া নাম। আবহাওয়ার পূর্বাভাস মডেলগুলোর প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ‘মোখা’ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হতে চলেছে। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানার শঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

রাজশাহী (৮টি), খুলনা (১০টি) ও বরিশাল (৬টি) বিভাগসহ ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে ও বিস্তার লাভ করতে পারে বলেও জানান এ আবহাওয়াবিদ।

আগামী তিন দিন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়ে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিকি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সবকিছুর পরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হবে কি না ও এর গতিবিধি কোন দিকে তা আরও দু-এক দিন পর বোঝা যাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।