ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বনলতা ট্রেনের কমেছে ৩ বগি, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

বনলতা ট্রেনের কমেছে ৩ বগি, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়মিত ছেড়ে যাওয়া বনলতা ট্রেনের ৩টি যাত্রীবাহী বগি কমানো হয়েছে। ফলে সাধারণ অন্যান্য আসনের পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ২০ আসনের টিকিট বাতিল করা হয়েছে। এতে করে ঢাকায় গমনেচ্ছু অধিকাংশ নিয়মিত যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াত না করতে পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কবে নাগাদ এই সঙ্কটের নিরসন হবে বলতে পারছেন না রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১৩ টি বগিতে যাত্রীবহন করে নিয়মিত ঢাকা যায় বনলতা ট্রেন। ট্রেনটিতে এ জেলার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৯৬টি আসন। এরমধ্যে আছে ২০ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের টিকিট। বনলতা থেকে কমিয়ে নেওয়া ওইসব বগিগুলোর মধ্যে একটি বগি ছিলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জন্য, আর সে বগিটি কমিয়ে নেওয়ার ফলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনে বসে ঢাকা যেতে পারছেন না যাত্রীরা। এতে করে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন তারা।

বনলতা ট্রেনের বগি কমে যাওয়ায় টিকিট না পেয়ে অনেকই ঘুরে যাচ্ছেন। এদেরই একজন ব্যাংকার সামিউল ইসলাম। তিনি জানালেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিতে টিকিট নেওয়ার জন্য রেলওয়ে স্টেশনে এসেছেন কিন্তু তিনি টিকিট না পেয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। স্টেশনে খোঁজ নিয়ে যখন জানতে পারলেন, ততোক্ষণে অন্যান্য সাধারণ আসনগুলোও বুকিং হয়ে গেছে। পরে তিনি বাসের টিকিট করে ঢাকা রওনা হয়েছেন।

জরুরী প্রয়োজনের তাগিদে ঢাকা যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে এসেছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, শারীরিক পরীক্ষা-নিরিক্ষার জন্য ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও এক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসার জন্য যাবো। তাই রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিটি কাটতে এসেছিলাম। টিকিট পাইনি, খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ট্রেনের টিকিট পেলে বাসে যাতায়াত করি না। বাসের যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট হয়, তাই ট্রেনেই যাতায়াত করি। বাসের টিকিট কেটে ঢাকায় যাওয়ার ভাড়া সাড়ে ৮০০ টাকা, আর ট্রেনের ভাড়া মাত্র ৪২৫ টাকা। বাসে করে ঢাকা যাওয়ার ভাড়াতেই ট্রেনে ওই টাকায় ঢাকা যেতেও পারবো, বাড়ি ফিরতেও পারবো। এছাড়াও বাসের যাত্রার থেকে ট্রেনের যাত্রা নিরাপদ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে শুধুমাত্র বনলতা ট্রেন চলায় টিকিটের ব্যাপক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। করোনাকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে মোট ৫টি ট্রেন বন্ধ করা হয়। নানান প্রতিবন্ধকতা পার করে সিরাজগঞ্জ মেইল চালু হলেও এখনও শাটল-২, শাটল-৪, রাজশাহী লোকাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রহনপুর লোকাল মোট ৪টি ট্র্রেন বন্ধ রয়েছে। এ ট্রেনগুলো চালুর দাবি জেলাবাসীর। বন্ধ ট্রেনগুলো চালু করার জন্য একাধিক কর্মসূচিও পালন করেছে জেলার সর্বস্তরের জনগণ কিন্তু দাবিগুলো অধরাই রয়ে গেছে। আশপাশের সব জেলার মানুষ ৪-৫টি আন্তঃনগরসহ বিভিন্ন ট্রেনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিরাপদে যাতায়াত করতে পারলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের যাত্রীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ট্রেনগুলো চালু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওলের স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল্লাহ বলেন, গত চার দিন ধরে বনলতা ট্রেনের ৩টি বগির চাকা নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে ওই যাত্রীবাহী বগির চাকাগুলো মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জন্য বরাদ্দ থাকা ২০ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আসনের টিকিট বাতিল করা হয়েছে। এসি কোচের টিকিট না পেয়ে অনেকই ফেরত যাচ্ছেন। কবে নাগাদ এই যান্ত্রিক ত্রুটির নিরসন হবে এটা সঠিকভাবে বলতে পারছি না।

বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলো চালুর বিষয়ে ওবাইদুল্লাহ বলেন, আপডাউনসহ মোট ৪ জোড়া ট্রেন বন্ধ আছে। এ ট্রেনগুলো কবে নাগাদ চালু হবে আমাদেরকে কিছুই জানায়নি। এ ট্রেনগুলো চালু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসীর অনেক উপকার হবে।

রাজশাহী রেলওয়ের (পশ্চিমাঞ্চল) প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, রেলের লোকবল সঙ্কট থাকায় বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলো চালু হচ্ছে না। শিগগির যথাযথ নিয়ম মেনে লোকবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ হওয়া ট্রেনগুলো চালু করা হবে।

শিয়াম/টিপু