ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে আরও অপেক্ষা করবেন কাদের সিদ্দিকী

মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০১৯ | ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ | 19 বার

ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে আরও অপেক্ষা করবেন কাদের সিদ্দিকী

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংসদে যোগদান প্রশ্নে টানাপড়েন, বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে তা বাস্তবায় না করা সহ বিভিন্ন অসঙ্গতি উল্লেখ করে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। তার বেঁধে দেওয়া এক মাস সময় শেষ হয় গত ৮ জুন। কিন্তু তারপরও জোট না ছাড়ার ব্যাখ্যায় কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, তিনি আরও অপেক্ষা করবেন। এছাড়া জোটের আগামী বৈঠক পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন তিনি। ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

সোমবার (১০ জুন) বিকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় বৈঠক করেন জোটের স্টিয়ারিং কমিটির নেতারা। গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন অসুস্থ থাকায় তিনি উপস্থিত হতে পারেননি বলে বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এজন্য কাদের সিদ্দিকীর জোট ছাড়ার বিষয়টিও স্থগিত করেছেন বলে তিনি জানান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জাতীয় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে। সেই আশাতেই আমরা ঐক্যফ্রন্টে অংশগ্রহণ করেছি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ঐক্যফ্রন্টের যুক্তিযুক্ত হয়েছে। যদি তা না করা হতো, তাহলে নির্বাচনে এমন প্রহসন হতে পারে, তা সারা বিশ্ব দেখত না, জানতে পারত না। এদিক থেকে ঐক্যফ্রন্ট সফল হয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান এবং পুনর্নির্বাচনের প্রত্যাশা, আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা জাতীয় আকাঙ্ক্ষা। এটা পুরো জাতির কথা।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে জতীয় সংসদে জোটের ছিটে ফোটা ৬-৭ জন সদস্য শপথ নেওয়ায় জাতি মর্মাহত হয়েছে। সে প্রশ্ন গুলোই আমরা ঐক্যফ্রন্টের প্রবীণ নেতা এবং ঐক্যফ্রন্টের কাছে করেছি। আমরা জাতির সেবা করতে চাই এবং আমরা বিশ্বাস করি, দেশের এই অব্যবস্থাপনা, মানুষের নিরাপত্তা নাই, মা-বোনদের সম্মান নাই, রাস্তা-ঘাটে নিরাপত্তা নাই, প্রতিদিন মানুষ মরছে, এ থেকে বাঁচতে হলে জাতীয় বৃহত্তর ঐক্য দরকার। আমাদের যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এটার চাইতেও শক্তিশালী ঐক্য দরকার। আমরা সেটা করতে চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত জাতির প্রত্যাশা ঐক্যফ্রন্ট পূরণ করতে পারে নাই।

দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আজকে (সোমবার) আমাদের নেতা (ড. কামাল হোসেন) অসুস্থ ছিলেন। আমরা আট তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম কিন্ত কোনো উত্তর পাই নাই। আজকে সে বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। কিন্ত এটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নাই। যেহেতু আমাদের নেতা অসুস্থ, সেহেতু সভা মুলতবি রাখা হয়েছে। এজন্য আমি আমার দলের সভায় আলোচনা করে আরও অপেক্ষা করব। যদি সুরাহা হয়, তাহলে আমরা আমাদের জান-প্রাণ দিয়ে লড়াই করব। আমরাও চাই জাতীয় ঐক্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের ভীত শক্তিশালী হয় নাই।

প্রসঙ্গত,ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে ওই নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করলেও নানা নাটকীয়তার পর বিএনপি ও গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সাতজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে অধিবেশনে যোগ দেন। তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৯ মে সংবাদ সম্মেলন করে কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাতজন সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার সঠিক ব্যাখ্যা না পেলে তারা আর জোটে থাকবেন না।

Development by: Creative it Solution

error: Content is protected !!