ঢাকা, সোমবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রোমাঞ্চ ছড়িয়ে টানা জয় বাংলাদেশের

জমজমাট লড়াই হলো দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে। আগের ম্যাচে লো স্কোরিংয়ের কারণে উইকেট নিয়ে যে সমালোচনা, তা যেন থামিয়ে দিলো এই ম্যাচ। ব্যাটসম্যান-বোলার সবাই সুবিধা আদায় করল। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়া নিউ জিল্যান্ড দারুণ লড়াই করল। তাতে ম্যাচে ছড়াল রোমাঞ্চ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জিতে নিলো ম্যাচ। ৪ রানের ঘাম ছুটানো জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ২-০ তে। আগামী রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

টম ল্যাথামের হাফ সেঞ্চুরিতে শেষ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। মোস্তাফিজুর রহমান আঁটসাঁট বোলিংয়ে তাদের চেপে ধরেন। কিন্তু পঞ্চম বলে নো বল দিয়ে বিপত্তি বাধান। তবে স্বস্তিতে ওভারটি শেষ করেছেন তিনি। তার প্রথম বলে কোল ম্যাককনচি ৩ রান নেন। দ্বিতীয় বলে ১ রান নেন ল্যাথাম। তৃতীয় বলে ম্যাককনচির ডাবলস। চতুর্থ বলে এক রান করতে পারেন তিনি। তাতে শেষ দুই বলে ১৩ রানের অসম্ভব লক্ষ্য পায় কিউইরা। তবে মোস্তাফিজের পঞ্চম বল নো হওয়ার সঙ্গে আসে বাউন্ডারিও। তাতে ২ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৮ রান। ফ্রি হিট থেকে দুটি রান করেন ল্যাথাম। শেষ বলে ছক্কা মারতে পারেননি অধিনায়ক, তাতে টানা হার দেখে কিউইরা। ৪৯ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৬৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ল্যাথাম। ১৫ রানে খেলছিলেন ম্যাককনচি।

বাংলাদেশ: ১৪১/৬

নিউ জিল্যান্ড: ১৩৭/৫

ফল: বাংলাদেশ ৪ রানে জয়ী।

 

শেষ ওভারে ২০ রান আটকাতে হবে বাংলাদেশকে

শেষ ওভারে নিউ জিল্যান্ডের দরকার ২০ রান। ১২ বলে ২৮ রানের প্রয়োজন ছিল। টম ল্যাথাম দারুণ খেলে ১৯তম ওভারে ৮ রান তোলেন।ওই ওভারে ল্যাথামকে রান আউট দেন আম্পায়ার, কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় বল ধরার আগেই বেল ফেলে দেন নুরুল হাসান সোহান। বেঁচে যান কিউই অধিনায়ক।

এবার মুশফিকের হাতে ধরা পড়লেন নিকলস

মুশফিকুর রহিম টানা দুটি ক্যাচে বাংলাদেশকে স্বস্তিকে রাখলেন। ১৫তম ওভারে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের ক্যাচ নেন তিনি। মেহেদী হাসানকে চার মেরে পরের ওভারে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা হেনরি নিকলসও ধরা পড়েন মুশফিকের হাতে। মেহেদীর বাড়তি বাউন্সে করা বল সুইপ করতে গিয়ে ৬ রানে বিদায় নেন কিউই ব্যাটসম্যান। ৯২ রানে ৫ উইকেট হারাল সফরকারীরা।

মুশফিকের ক্যাচে গ্র্যান্ডহোমের বিদায়

নাসুম আহমেদ তৃতীয় ওভারে বল হাতে নিয়ে পেলেন প্রথম উইকেট। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে ৮ রানে বিদায় করেছেন বাংলাদেশি স্পিনার। ডিপ স্কয়ার লেগে মুশফিকুর রহিম তার ক্যাচ ধরেন। ৮৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারাল কিউইরা।

স্বস্তি এনে দিলেন সাকিব

উইল ইয়াংকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছেন সাকিব। শুরুতে দুই উইকেট হারানোর পর লাথাম-ইয়ংয়ের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালায় কিউইরা। সাকিবের ঘুর্ণি বলে শর্ট থার্ডম্যান অঞ্চলে সাইফউদ্দিনের হাতে ক্যাচ দিলে ভাঙে ৪৩ রানের জুটি। ২৮ বলে ৩টি চারে ২২ রান করেন ইয়ং।

নিউ জিল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

১৮ রানে ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে নিচ্ছে নিউ জিল্যান্ড। উইল ইয়াংকে নিয়ে দলকে পথে ফেরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন অধিনায়ক টম ল্যাথাম। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তারা ২৮ রান করে ২ উইকেট হারিয়ে। ক্রিজ আঁকড়ে ধরে লক্ষ্যপানে ছুটছেন তারা। ৮.৫ ওভারে দলীয় স্কোর পঞ্চাশে পৌঁছায়।

২ রানের ব্যবধানে নিউ জিল্যান্ডের আরেক ওপেনারের বিদায়

১৬ রানে ওপেনার রাচিন রবীন্দ্রকে হারাল নিউ জিল্যান্ড। আরেক ওপেনার টম ব্লান্ডেলও তাকে অনুসরণ করলেন। ১৮ রানে কিউইদের আরেকটি উইকেট পেল বাংলাদেশ। ২ রান ও ৫ বলের ব্যবধানে সফরকারীদের দ্বিতীয় উইকেটের পতন। মেহেদী হাসানের বলে স্টাম্পিং হন ব্লান্ডেল। ৮ বলে ১ চারে ৬ রান করেন তিনি। মেহেদীর বল ব্লান্ডেলকে ফাঁকি দিয়ে নুরুল হাসান সোহানের হাতে চলে যায়। ততক্ষণে নিউ জিল্যান্ড ব্যাটসম্যান ক্রিজ থেকে অনেক দূরে। ঠাণ্ডা মাথায় বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক বেল ফেলে দেন।

সাকিব ভাঙলেন উদ্বোধনী জুটি

তৃতীয় ওভারে বল হাতে নেন সাকিব আল হাসান। স্ট্রাইকে ছিলেন রাচিন রবীন্দ্র। প্রথম বল ডট, পরের বলে ছক্কা খান বাঁহাতি স্পিনার। পরের বলও মেরে খেলতে চেয়ে ভুল করেন রাচিন। ৯ বলে ১০ রান করে বোল্ড হন তিনি। সাকিব ১৬ রানে ভাঙেন নিউ জিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি।

 

নিউ জিল্যান্ডকে ১৪২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো বাংলাদেশ

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মোহাম্মদ নাঈম-লিটন দাসের ব্যাটে নিউ জিল্যান্ডকে ১৪২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান করে। ইনিংসের শেষ বলে সোহান আউট না হলে এই রান হয়তো আরও বাড়তো। মাহমুদউল্লাহ ৩২ বলে ৩৭ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫টি চারে। এ ছাড়া মোহাম্মদ নাঈম ৩৯ বলে ৩৯, লিটন দাস ২৯ বলে ৩৩ রান করেন। মুশফিক ০ আফিফ ৩ রানে ফেরেন। সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন রাচিন রবীন্দ্র।

৩ রান করে সাজঘরে আফিফ

প্রথম ম্যাচে নামতে হয়নি। আগেই জিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে নামতে পেরেও রান করতে পারেননি আফিফ হোসেন ধ্রুব। গ্র্যান্ডহোমের বলে লং অনে ধরা পড়েন এজাজ প্যাটেলের হাতে। তার ব্যাট থেকে আসে ৩ বলে ৩ রান।

পারলেন না নাঈম

১৫ ওভার শেষে ১৬তম ওভারের খেলা চলছে। তখনো ৩৮ বলে ৩৯ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন ওপেনিংয়ে নামা মোহাম্মদ নাঈম। সুযোগ ছিল হাফসেঞ্চুরি করার। বাগড়া দিলেন রাচিন রবিন্দ্র। একপা বাড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা ব্লান্ডেলের হাতে ধরা পড়েন লং অনে। শেষে পর্যন্ত ৩৯ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন সাজঘরে।

৮৯ বলে বাংলাদেশের ১০০

পরপর তিন উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে উঠেছে বাংলাদেশ। এক্সট্রা কাভার ও মিড অফের মাঝে দিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দারুণ চারে বাংলাদেশ তিন অঙ্কের ঘর পার করে। সাকিব আউটের পর ক্রিজে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, আগে থেকেই ক্রিজে আছে ওপেনিংয়ে নামা মোহাম্মদ নাঈম।

দারুণ শুরুর পর হঠাৎ ছন্দপতন

রাচিন রবীন্দ্রর স্লোয়ারে পরাস্ত লিটন দাস। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান। ব্যাটিং অর্ডারে উপরে এসে পরের বলেই শূন্য মেরে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। দারুণ শুরুর পর যেনো হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। এরপর ক্রিজে এসে সাজঘরে ফেরেন সাকিব আল হাসানও। তার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ১২ রান। একে একে ফেরেন লিটন-মুশফিক-সাকিব। ৫৯ রানে পতন ঘটে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের। এরপর স্কোরবোর্ডে ১৩ রান না যোগ হতেই আরও ২ উইকেট পড়ে যায়।

দারুণ শুরু করেও ব্যর্থ সাকিব

পজিশনে রদবদল করে চারে আসেন সাকিব। কিন্তু তিনিও খুব একটা কিছু করতে পারেননি। তবে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন ভালোভাবেই। কোল ম্যাককনচির ওভারে দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বল তুলে দেন লংঅফে। সেখানে থাকা অভিষিক্ত বেন সিয়ার্স দুই বারের চেষ্টায় বলটি তালুবন্দি করেন। ৭ বলে ১২ করে সাজঘরে ফেরেন সাকিব।

মুশফিকের ষষ্ঠ শূন্য

সাকিবের পরিবর্তে তিনে আসেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দিনটা ভালো ছিল না তার। রাচীন রবীন্দ্রের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো রান না করেই ফিরতে হয়েছে এই ব্যাটসম্যানের।

বাইরের বল মারতে গিয়ে আউট লিটন

দশম ওভারের তৃতীয় বলে রবীন রবীন্দ্রকে কাট করতে গিয়ে ব্যাটে বলে হয়নি লিটনের। অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল মারতে গেলে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেট ভেঙে যায় লিটনের। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান।

 

লিটন-নাঈমে দুর্দান্ত বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজসহ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশ। অবশেষে দুই ওপেনার লিটন দাস-মোহাম্মদ নাইমের ব্যাটে দারুণ শুরু করেছে বাংলাদেশ। এর আগের ৬ টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ রান এসেছিল ৪২টি। এবার সেটা টপকে দলীয় ৫০ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ।

 

শূন্য রানে জীবন পেলেন লিটন

শূন্য রানে জীবন পেয়েছেন লিটন দাস। ম্যাককনচির করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে পেছনে গিয়ে পুল করেছিলেন; কিন্তু বৃত্তের মধ্যে স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডার গ্র্যান্ডহোম তালুবন্দি করতে পারেননি। পরের বলে সুইপ করতে গিয়ে মিস করেন; বল লাগে পায়ে; তবে স্ট্যাম্পের বাইরে হওয়াতে সাড়া দেননি আম্পায়ার। ক্যাচ তোলার পর এলবিডব্লিউ; দুবারই বেঁচে যান লিটন।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

একদিন না যেতেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ৫ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে জিতে এগিয়ে আছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে জিততে পারলেই আরও একধাপ এগিয়ে যাবে সিরিজ জয়ের পথে। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় খেলাটি শুরু হয়। প্রথম ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই; সেটা হলো জয়।

 

বাংলাদেশ একাদশ: বাংলাদেশ একাদশে কোন পরিবর্তন ঘটেনি। প্রথম ম্যাচের একাদশেই আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজম্যান্ট।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাঈম শেখ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নাসুম আহমেদ, সাইফউদ্দিন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

নিউ জিল্যান্ড একাদশ : নিউ জিল্যান্ড একাদশে দুই পরিবর্তন ঘটেছে। ডাফি-টিকনারের পরিবর্তে দলে এসেছেন হামিশ ব্যানেট ও বেন সিয়ার্স। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে অভিষেক ঘটছে সিয়ার্সের।

টম ল্যাথাম (অধিনায়ক, উইকেট রক্ষক), রাচিন রবীন্দ্র, টম ব্লান্ডেল, উইল ইয়াং, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, হেনরি নিকলস, কোল ম্যাকননচি, ডগ ব্রেসওয়েল, এজাজ প্যাটেল, জ্যাকব ডাফি ও ব্লেয়ার টিকনার।

ক্যান্সার যোদ্ধাদের উৎসর্গ

এই ম্যাচটি ক্যান্সার যোদ্ধাদের উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশ ক্যান্সার এইড ট্রাস্টের (ব্যানক্যাট) প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিলো দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়াতে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরু করে ব্যানক্যাট। এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্যান্সার প্রতিরোধ, গবেষণা, শিক্ষা, এডভোকেসি ও সেবার মাধ্যমে ক্যান্সার দূরীকরণের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। এবার তাদের কার্যক্রমকে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়াল বিসিবি।