ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আবারো ভার্চুয়ালে ফিরছে সুপ্রিম কোর্ট

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আগামীকাল বুধবার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ ভার্চুয়ালি পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নির্দেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর এ বিষয়ে পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।

দুটি বিজ্ঞপ্তিতেই বলা হয়, সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী বুধবার থেকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে আপিল বিভাগ ও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সব বেঞ্চের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এর আগে, সকালে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছিলেন, যেভাবে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ভার্চুয়ালি যেতে হবে। হাইকোর্ট বিভাগের ১৩ জন বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত। সুপ্রিম কোর্টের অনেক স্টাফও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে শারীরিক উপস্থিতিতে কোর্টের কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে যাবে। এদিকে নিম্ন আদালতের অনেক বিচারকও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

২২ সহকারী জজ করোনা আক্রান্ত, প্রশিক্ষণ বন্ধ ঘোষণা

রাজধানীর জাতীয় বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিউটে প্রশিক্ষণ নিতে এসে দেশের বিভিন্ন আদালতের ২২ জন সহকারী জজ (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে অসমাপ্ত রেখেই দুই মাসের প্রশিক্ষণ প্রোগাম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ২২ জন সহকারী জজকে জাতীয় বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইসোলশনে রাখা হয়েছে।

অপরদিকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব আদালতেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ঐ সময় দেশের বিচারব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়ে আইন হয়। ১১ মে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমতে থাকলে প্রথমে কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে নিম্ন আদালতের কার্যক্রম চালু করা হয়। পরে হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চেও শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চালু করা হয়। পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালতও চালু থাকে।

তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, অর্থাৎ আপিল বিভাগ এবং চেম্বার আদালত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেই চলে আসছিল। দেড় বছরের বেশি সময় এ প্রক্রিয়ায় বিচারকাজ চলার পর গত ১ ডিসেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টে শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু হয়। তবে নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ভার্চুয়ালি চালানোর সিদ্ধান্ত আসে। সপ্তাহে চার দিন (রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবার) ভার্চুয়ালি বিচারকাজ পরিচালনা করবেন চেম্বার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এমন প্রেক্ষাপটে সোমবার ভার্চুয়াল আদালতে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন প্রধান বিচারপতি।