মিল্ক ভিটার দুধ বিক্রিতে বাধা কাটল

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯ | ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ | 51 বার

মিল্ক ভিটার দুধ বিক্রিতে বাধা কাটল

মিল্ক ভিটার পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান। মিল্ক ভিটার করা এক আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। মিল্ক ভিটার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক ও ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ (ফরহাদ)।

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ দিয়েছিলেন পাস্তুরিত দুধের সব রকম উৎপাদন-বিপণন বন্ধ থাকবে। এই আদেশের বিরুদ্ধে মিল্ক ভিটার পক্ষে আপিল বিভাগে গিয়েছিলাম। এ আদেশের কার্যকারিতা আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। তবে এ আদেশ শুধু মিল্ক ভিটার জন্য প্রযোজ্য হবে।’ ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ বলেন, এখন মিল্ক ভিটার উৎপাদন ও বিপণনে বাধা নেই।

গতকাল আদেশের পর মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের পর আমরা দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ রেখেছিলাম। তবে চেম্বার জজ আদালতের এই আদেশের পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে আবার উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন শুরু করা হবে।’

বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সধারী ১৪টি কম্পানির পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা থাকায় সব কম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিতরণ পাঁচ সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হাইকোর্ট আদেশ দেন রবিবার। এই আদেশের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সমবায়ভিত্তিক দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা (বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড) গতকাল আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে।

দেশীয় খামারিদের দুধ বন্ধ হোক, এটা চাই না —হাইকোর্ট

এদিকে দুধের বিষয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, ‘আমরা শুধুই তরল দুধ নিয়ে ব্যস্ত আছি। গুঁড়া দুধে কী আছে তা দেখা দরকার। আমরা চাই না, দেশীয় দুধ বন্ধ হওয়ার কারণে বিদেশি গুঁড়া দুধে বাজার সয়লাব হয়ে যাক। বিদেশি গুঁড়া দুধ বাংলাদেশের বাজার দখল করুক, এটা আমাদের কাম্য নয়।’ আদালত বলেন, ‘দেশীয় খামারিদের দুধ বন্ধ হোক, এটা চাই না। আমাদের চাওয়া, দেশীয় খামারিদের দুধ উৎপাদনে আরো বিস্তার বাড়ুক। তবে সেটা হতে হবে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন। দুধ উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। কোনোভাবেই তা যেন জনস্বাস্থ্যের জন্য অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ না হয়। আমাদের চাওয়া, দেশে মানুষ যেন ভালো থাকে।’

এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফরিদুল ইসলাম বলেন, গুঁড়া দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারেন আদালত।

তবে আদালত বলেন, ‘এটা দেখার দায়িত্ব আপনাদের ও বিএসটিআইয়ের। আদালতের কেন আদেশ দিতে হবে? আইনে আপনাদেরই তো ক্ষমতা দেওয়া আছে। আপনারা কেন সেটা পরীক্ষা করছেন না?’

জবাবে এ আইনজীবী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করতে গেলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ীরাই প্রশ্ন তুলবে যে কেন আমরা তা পরীক্ষা করছি। আদালত আদেশ দিলে সেই প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।’

এরপর বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান বলেন, দুধে যে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে তার বেশির ভাগই সহনীয় মাত্রায়। আর সিসা পাওয়া গেছে সহনীয় মাত্রার চেয়ে সামান্য কিছু ওপরে। তাই এই দুধ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কি না তা পরীক্ষা করে মতামত জানতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে প্রতিবছর দু-তিনবার দুধ পরীক্ষা করা হয়। এটা দেখার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি আছে। আমাদের দেশেও এ রকম একটি কমিটি করার জন্য আদালতের আদেশ চাচ্ছি।’

পরে আদালত আগামী ২০ অক্টোবর আদেশের জন্য দিন ধার্য করে বলেন, ‘হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কী অবস্থা দাঁড়ায় তা দেখা দরকার। এরপর আমরা আদেশ দেব।’

এসএ টিভির কার্যালয়ে চাকরিচ্যুতদের তালা

Design & Developed by: Ifad Technology