প্রধানমন্ত্রীর উপহার তালিকায় বাড়িওয়ালা, দাদু-মা-বাবা-নাতী

শুক্রবার, ২২ মে ২০২০ | ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ | 21 বার

প্রধানমন্ত্রীর উপহার তালিকায় বাড়িওয়ালা, দাদু-মা-বাবা-নাতী

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার করোনা দুর্যোগে উপহার তালিকায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার নগদ’-এর তালিকায় বিশাল সহায়-সম্পদ ও পাকা বাড়ি আছে এমন ব্যক্তির নাম খুঁজে পাওয়া গেছে। ওই তালিকায় দাদু, মা-বাবা-নাতী, বাবা ৩ পুত্রসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে নাম থাকার পরও এ তালিকায় নাম দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে এ অভিযোগ করেন ভুটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ।

অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর জানান, কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাওহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কবীর উদ্দিন জানান, তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দোকান-কর্মচারীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। এ তালিকায় লাখপতি আর শত শত মন ধান পান এমন কৃষকের নামও রয়েছে। তালিকা প্রণয়নে চরম দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন ও দুস্থদের জন্য আড়াই হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ উপহার মাওহা ইউনিয়নে পাচ্ছেন ৫৩০ জন। ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রায় ৫৯ জন তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। অথচ এ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে ২৩০ জন তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাস উদ্দিন খোদা নেওয়াজ জানান, আমি তালিকা বিষয়ে কিছুই জানি না, কতজন এ ওয়ার্ডে হয়েছে তাও বলতে পারব না। চেয়ারম্যান বলতে পারবেন।

এদিকে শুধুমাত্র ১নং ওয়ার্ডের ধারাকান্দি গ্রামের মৃত গফুর আলীর পুত্র মো. মজিবুর রহমান (তালিকায় ক্রমিক নং ২৪০), মজিবুর রহমানের স্ত্রী মোছা. মনোয়ারা (২৪১), তার দুভাই সাইফুল মিয়া (২৪২), বাবুল মিয়া (২৪৫), তার মা ফুলবানু (৩৫৭) নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমন অনেক পরিবারে একাধিক সদস্যকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এ গ্রামের মৃত আনফর আলীর পুত্র মো. আবদুল জলিল (২৪৪), তার ভাই মো. আরশাদ আলী (২৫০) আর আরশাদ আলীর স্ত্রী মোছা. রিপার নামে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চালের রয়েছে ভিজিডি কার্ডও। এমন অনিয়মের অভিযোগ আরও রয়েছে।

এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এন্ট্রাস মিয়া বলেন, গ্রামের দরিদ্র মানুষের আইডি কার্ডের ফটোকপি এনেছি, কারা পেয়েছে সেই তালিকা সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।

অপরদিকে দীর্ঘদিন প্রবাস থেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী পাকা ভবনের মালিক বাঢ়া গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের পুত্র আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার নগদ তালিকায়। তিনি বলেন, বিদেশে ছিলাম-এখন ঢাকায় কাজ করছি। আপনাদের বিবেক দিলে দিবেন, না দিলে অভিযোগ নেই। এমন আরও সম্পদশালীদের নামও নগদের তালিকায় দেখে এলাকাবাসী বিস্মিত।

অভিযোগকারী গোলাম মোহাম্মদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী উপহার নগদ টাকার জন্য তালিকা প্রণয়নে একটি কমিটি হওয়ার কথা, সেটা হয়নি। তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়ার প্রতিকার চেয়েছি।

এ সব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রমিজ উদ্দিন স্বপনের মোবাইলে কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্কুল ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করলো ছাত্রলীগ সভাপতি

Design & Developed by: Ifad Technology