ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
রাশিয়ায় ভারত-চীনের বৈঠক

লাদাখ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না চীন

রাশিয়ায় জোড়া বৈঠকের পরেও লাদাখ-পরিস্থিতি পরিবর্তনের কোনো সুখবর পেল না ভারত। লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হলেও সেনা প্রত্যাহারে রাজি হয়নি চীন।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

খবরে বলা হয়, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর পার্শ্ববৈঠকে বৃহস্পতিবার দু’দফায় আলোচনা করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তথা স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই। প্রথমবার মধ্যাহ্নভোজন পর্বের বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও ছিলেন। সন্ধ্যায় দ্বিতীয় বৈঠকে জয়শঙ্কর এবং ওয়াং লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার আরও জানিয়েছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনায় সায় দিয়েছেন ওয়াং। কিন্তু নিজেদের ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অখণ্ডতা বজায় রাখা’র কথা বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, আপাতত প্যাংগং হ্রদের উত্তরের ফিঙ্গার এরিয়াগুলি থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির পিছু হটার সম্ভাবনা কার্যত নেই।

এর আগে গত শুক্রবার এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফংহির সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। কিন্তু গত ১৫ জুন গালওয়ানে ভারত ও চিনা ফৌজের রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর রাজনৈতিক স্তরের সেই প্রথম বৈঠকে এলএসি নিয়ে কোনও রফাসূত্র মেলেনি। প্যাংগং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণে ‘মুখোমুখি অবস্থান থেকে সেনা পিছনো’ (ডিসএনগেজমেন্ট) এবং ‘সেনা সংখ্যা কমানো’ (ডিএসক্যালেশন) নিয়েও ঐকমত্য হয়নি।

বৃহস্পতিবার দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে এলএসি-তে উত্তেজনা প্রশমন এবং সীমান্ত সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পাঁচ দফা সূত্রে ঐকমত্য হয়েছে বলে সাউথ ব্লক সূত্রের দাবি। এর মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আগের চুক্তি ও প্রটোকল মেনে চলা, সংঘাতের আশংকা রয়েছে এমন পদক্ষেপ এড়ানোর মতো বিষয়গুলি রয়েছে। এলএসি নিয়ে মতবিরোধকে সংঘাতে গড়াতে না দেওয়া, ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং উত্তেজনা প্রশমনে আস্থাবর্ধক কর্মসূচি নেওয়ার মতো বিষয়গুলিও পাঁচ দফা সূত্রে রয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বিবৃতি জানিয়েছে। যদিও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। যা থেকে মনে হচ্ছে,বরফ আদৌ গলেনি। সেভাবে কোনও দিশাও মেলেনি।