ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

পৌরসভা নির্বাচন: সরগরম তৃণমূল

সারা দেশে দুই শতাধিক পৌরসভায় কয়েক ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে শুরু হচ্ছে এ ভোট। পৌর নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে সরগরম তৃণমূলের রাজনীতি। ভোট সামনে রেখে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। গণসংযোগের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু করেছেন লবিং। এবারও একক প্রার্থী চূড়ান্তে হিমশিম খাবে আ’লীগ ও বিএনপি

একক প্রার্থীই আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ

পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগে। ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। প্রায় প্রতিটি পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বিরোধী দলগুলোর তেমন তৎপরতা না থাকায় নিজেরাই এখন নিজেদের প্রধান প্রতিপক্ষ।

তৃণমূলের তালিকায় নাম আনতে শুরু করেছেন লবিং-তদবির। পোস্টার-ব্যানারের পাশাপাশি অনলাইনেও চালাচ্ছেন প্রচার। অবস্থান জানান দিতে দিচ্ছেন মহড়াও। এতে উত্তাপ ছড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়ানোর ঘটনাও ঘটছে কোথাও কোথাও।

ফলে এবারের নির্বাচনেও একক প্রার্থী নিশ্চিত করাই দলটির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরিসহ তৃণমূলে দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারির কথাও বলছেন তারা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। পৌরসভা নির্বাচনে আমাদের দলের তৃণমূলের জনপ্রিয়, সংগঠনের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে সক্ষম-এমন নেতাদেরই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা বিতর্ক রয়েছে, তাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না।

একই বিষয়ে প্রেসিডিয়ামের আরেক সদস্য এবং স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে তৃণমূলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। তাদের বলেছি, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্বাচনী সব কার্যক্রম শুরু করতে।

দলীয় প্রার্থী বাছাই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে (তিনজন বা দু-একজন বেশিও হতে পারে) নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠাবে। আমাদের মনোনয়ন বোর্ড সেখান থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। বিদ্রোহীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেউ গেলে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। জেলা, উপজেলা, পৌরসভাসহ তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। অন্যদিকে, মনোনয়নপ্রত্যাশী ও স্থানীয় নেতাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌর নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আনাগোনা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক যুগান্তরকে বলেন, তৃণমূলে অনেক জায়গায় অনেক সমস্যা রয়েছে। সম্মেলন বা নির্বাচনের সময় যেগুলো আমাদের ফেস করতে হয়। আমরা চেষ্টা করছি, যতটা সম্ভব সেগুলোর সমাধান করা। তাদের ঐক্যবদ্ধ করা। যেমন এবার পৌর নির্বাচনের তৃণমূল থেকে তালিকা দিতে হবে।

সেটা যেন কারও প্রভাবে না হয়ে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে হয়, তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এ কারণে এর বাইরে কেউ ফরম কিনতে পারবে না। সুতরাং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী থাকে। তাদের আবার অনেকেই প্রশ্রয় দেয়, সাপোর্ট দেয়। এই বিষয়গুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।

এদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, সামনে আসছে বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এসব নির্বাচনে জয়ের প্রস্তুতি এখন থেকে গ্রহণ করতে হবে। দলের প্রার্থীর জয়ের জন্য যথাযথ প্রার্থী নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত হতে হবে। তৃণমূলের প্রার্থীকে যাচাই-বাছাই করেই স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তাই বলব, শক্তিশালী এবং ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবেন এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থীর বিজয়ে কাজ করবেন।

এদিকে আওয়ামী লীগে শুরু হয়েছে দল গোছানোর কার্যক্রম। জেলা সম্মেলনের আগে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলোর সম্মেলনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে শুরু হতে যাওয়া পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে তৃণমূলে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে। প্রার্থীরা নিয়মিত দেখা করছেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে। দলীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। অন্যদিকে নির্বাচনে প্রচারে নিজেদের অবস্থান উত্তাপ ছড়ানোর পাশাপাশি কোনো কোনো পৌরসভায় নেতাকর্মীরা জড়াচ্ছেন সহিংসতায়ও।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, একটানা এক যুগ ক্ষমতায় থাকায় অন্যান্য নির্বাচনের মতো পৌরসভা নির্বাচনেও সারা দেশে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন করে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। প্রতিটি পৌরসভাতেই কমপক্ষে ৪-৭জন বা কোথাও কোথাও আরও বেশি নেতা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। নানা মাধ্যমে তারা প্রচারণাও শুরু করেছেন।

চেষ্টা করছেন যে কোনোভাবে তৃণমূলের তালিকায় নিজের নাম ওঠাতে। তাদের অনেকেই আবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলের শীর্ষ নেতাদের কাছের লোক। ফলে অনেক পৌরসভাতেই এবারও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুগান্তর ব্যুারো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ১৫টি পৌরসভার মধ্যে নির্বাচনযোগ্য পৌরসভা রয়েছে ১০টি। বাকি ৫টি পৌরসভার এখনও মেয়াদ পূর্ণ হয়নি। নির্বাচনযোগ্য পৌরসভাগুলোয় প্রার্থী হতে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীরাই দৌড়ঝাঁপে বেশি এগিয়ে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম যুগান্তরকে বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিটি উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ বড় দল হওয়ায় এখানে এক পদে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাকে প্রার্থী দেয়া হবে, তিনিই নির্বাচন করবেন। বাকিরা দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে কাজ করবেন। দলীয় গাইডলাইন অনুযায়ী মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।’

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান মেয়র মো. আবদুস ছাত্তার (কমান্ডার), সাবেক মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মো. আবুল খায়ের, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল জলিল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ছাত্রনেতা পলাশ গুণ।

ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক, বর্তমান মেয়র ডা. একেএম মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম; পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র মরহুম মফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে সালাহ উদ্দিন সরকার; মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কামান্ডের সাবেক আহ্বায়ক সাদিকুর রহমান তালুকদার; বর্তমান এমপি কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনুর ভাগনে, ভালুকা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলুল আমীন লিটন এবং ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ পারভেজ গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে এলাকায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- আওয়ামী লীগ থেকে পৌরসভার বর্তমান মেয়র এসএম ইকবাল হোসেন সুমন ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট কায়সার আহাম্মেদ। ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান রিপন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার জামান জনি, পৌর কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) শাহ আলম হেলিম মাহিন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রাশিদ।

ত্রিশাল পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান মেয়র এবিএম আনিছুজ্জামান, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাসান মাহমুদ, সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ সরকার, সাবেক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শোভা মিয়া আকন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ও সাবেক প্যানেল মেয়র মামুন-অর রশিদ।

সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী হতে চান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বর্তমান মেয়র মুক্তিযোদ্ধা খলিল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র বাবুল হোসাইন, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ।

গোলাপগঞ্জের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে উপজেলার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল, সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা জাকারিয়া আহমদ পাপলু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রুহিন আহমদ খান আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

শায়েস্তাগঞ্জ পৌর নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ৭ নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা হলেন- বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ছালেক মিয়া, হবিগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আতাউর রহমান মাসুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র মাসুদউজ্জামান মাসুক, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজল উদ্দিন তালুকদার, শায়েস্তাগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম শিবলু, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাহেল মিয়া সরদার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমদাদুল ইসলাম শীতল।

এদিকে পৌর নির্বাচনের খবরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজশাহীর ১৪ পৌরসভা এলাকা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন মাঠে। সরকারি দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে বেশি দৌড়ঝাঁপ করছেন। তানোরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আবুল বাসার সুজন মাঠে নেমেছেন। গতবারের প্রার্থী ইমারুল হক প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা করেছেন।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ছাড়াও আবদুল মান্নান ফিরোজ, আমিনুল ইসলাম টুটুলসহ ৫ নেতা মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তাহেরপুর পৌরসভায় বর্তমান মেয়র আবুল কালাম আজাদের পাশাপাশি আরও তিন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। গোদাগাড়ীতে বর্তমান মেয়র মনিরুল ইসলাম ছাড়াও অয়েজুদ্দিন বিশ্বাস, মাহবুবুল আলম মুক্তি মাঠে নেমেছেন।

এছাড়া বরিশাল জেলার গৌরনদী পৌরসভার মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারিচুর রহমান ছাড়াও মনোনয়ন নিতে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এইচএম জয়নাল আবেদিন ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া।

একইভাবে মুলাদী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. সফিকউজ্জামান রুবেল ছাড়াও এখানে আওয়ামী লীগের আরও অনেক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। যদিও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান মেয়র রুবেল। তবে এখানকার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন হিরণ, উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি আবদুর রব মুন্সি, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ উদ্দিন হাওলাদার, মোসলেম উদ্দিন বয়াতি, শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক দিদারুল আহসান খান, কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন তালুকদার মেয়র প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন। পৌরসভা নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বাকেরগঞ্জ পৌরসভা মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়া।

কিন্তু তারপরও মনোনয়ন দৌড়ে মাঠে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাঝি, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মশিউর রহমান জোমাদ্দার ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রিপন। জেলার বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র শিল পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠার কারণে এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান করায় তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

কিন্তু তারপরও এখনে মেয়র হতে মাঠে তোড়জোড় চালাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহমুদ হোসেন মাখন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুব্রত লাল কুণ্ডু, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান দুলাল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক মিন্টু।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বর্তমান পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন খান ছাড়াও মেয়র পদে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম ভুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, সহ-সম্পাদক আবদুল জব্বার কানন, যুবলীগ সভাপতি পারভেজ চান ও পৌর কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন।

এদিকে উজিরপুর পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ব্যাপারি ছাড়াও এখানে মেয়র পদে প্রার্থিতা করতে চান উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হেমায়েত উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি অশোক কুমার হাওলাদার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. ইকবাল হোসেন বালি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামাল হোসেন সবুজ।

তৃণমূলের সিদ্ধান্তেই প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বিএনপি

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেই শুরু হচ্ছে তৃণমূলে নির্বাচনী হাওয়া। ডিসেম্বরে শুরু হতে যাওয়া পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন। করোনাভাইরাস উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা উপায়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে অনেকে ব্যস্ত লবিংয়ে।

তবে এবারের প্রার্থী চূড়ান্তে গুরুত্ব পাবে বিএনপির তৃণমূলের মতামত। কারণ, স্থানীয় সরকার প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। তাতে ধানের শীষ প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষমতা পেয়েছেন তৃণমূল নেতারা। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের পাঁচজন নেতা আলোচনাক্রমে একক প্রার্থী মনোনয়নের জন্য লিখিত সুপারিশ করবেন।

সেই সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। কোথাও এ পাঁচজন ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারলে সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। তবে দল মনোনয়ন না দিলেও অনেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। যে কোনো মূল্যে নির্বাচন করবেন বলে নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তারা। তবে তৃণমূলের সুপারিশের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে ২৫৯টিতে ভোটের আয়োজন করতে আইনগত কোনো বাধা নেই। এসব পৌরসভায় ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ৪-৫ ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বেশিরভাগ পৌরসভাতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেয়া হবে।

সারা দেশে নির্বাচনের অংশ হিসেবে ডিসেম্বর শেষ দিকে প্রথম দফার সম্ভাব্য ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। চলতি সপ্তাহে এসব পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। পৌরসভা নির্বাচনের পর এপ্রিল থেকে ধাপে ধাপে শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

বতর্মান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না- এমনটা ধরে নিয়েই ভোটে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির নেতারা মনে করেন, ভোটের নামে যে প্রহসন তাতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন কতটা নিচে নামতে পারে, তা জাতি দেখুক। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যেও একটা চাঙ্গাভাব তৈরি হবে। সাংগঠনিকভাবে দলে গতি আসবে। সবকিছু বিবেচনা করেই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, এ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তারপরও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মনোনয়ন চূড়ান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীরাই দলের প্রাণশক্তি। সব সময়ই বিএনপি তাদের মতামতকে মূল্যায়ন করেছে। দলের সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে তৃণমূলকে আরও প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। তারাই নির্ধারণ করবেন তাদের প্রতিনিধি হওয়ার জন্য কে সবচেয়ে যোগ্য। এ প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হলে তৃণমূলেও কোনো ক্ষোভ বা অসন্তোষ থাকবে না বলে আমরা মনে করি।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় দফতরের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলকে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তৃণমূলের সবার মতামতের ওপর ভিত্তি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

কিন্তু কোথাও যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচ নেতা ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারেন সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের সহযোগিতা নিতে পারবেন। কেন্দ্র দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে যার জনপ্রিয়তা রয়েছে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার সুপারিশ করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সুপারিশের বাইরে গিয়ে যদি কেউ নির্বাচন করেন তাহলে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা গেছে, দেশের প্রায় প্রতিটি পৌরসভায় জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া। রাজশাহী জেলার ১৪টি পৌরসভায় বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। রাজশাহীর ১৪টির মধ্যে দুটি পৌরসভায় বিএনপির নির্বাচিত মেয়র রয়েছেন। রাজশাহীর তানোর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র মিজানুর রহমান মিজান আবারও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের সিদ্ধান্ত যাই হোক তিনি আবারও প্রার্র্থী হবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। শুরু করেছেন গণসংযোগ।

রাজশাহীর আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, প্রার্থীরা মাঠে আছেন। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের যেসব জনপ্রিয় প্রার্থী মাঠে আছেন পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জের পৌর নির্বাচনে বিএনপির গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহিন ও মহিউসসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস মাঠে রয়েছেন। জানতে চাইলে নার্জিস বলেন, আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তা হলে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। তবে প্রভাবিত কিংবা প্রহসনের নির্বাচন হলে অংশ নেব না।

জেলার জকিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি থেকে দলীয় প্রতীক চান পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র ইকবাল আহমদ তপাদার, পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক বদরুল হক বাদল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন হীরা।

জানতে চাইলে ইকবাল আহমদ বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা আমাকে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাপ দিচ্ছেন। এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি। দল চাইলে নির্বাচন করতেও পারি। শায়েস্তাগঞ্জ পৌর নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক মেয়র ফরিদ আহমেদ অলি, যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক কাউন্সিলর হাজী আবদুল মজিদ। এরই মধ্যে জেলা বিএনপি ফরিদ আহমেদ অলিকে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেখার অপেক্ষায় বিএনপির প্রার্থীরা।

ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য একক প্রার্থী হিসাবে হাতেম খান পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। হাতেম খান গত পৌর নির্বাচনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে পৌরবাসীর সুখেদুঃখে কাজ করে যাচ্ছি। নিজে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাসায় গিয়ে তাদের ও আশপাশের পরিবারের লোকজনকে চাল, ডাল, আলু, তেল, পেঁয়াজ এবং মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।

গত নির্বাচনে বর্তমান মেয়র ভোট ডাকাতি ও লুট না করলে আমি গত বছরই মেয়র নির্বাচিত হতাম। জেলার গফরগাঁও পৌরসভায় বিএনপি থেকে শাহ আবদুল্লাহ আল মামুন ও পৌর সভাপতি ফজলুল হক মাঠে রয়েছেন। জেলার নান্দাইল পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক পৌর মেয়র এএফএম আজিজুল ইসলাম পিকুল মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ত্রিশাল পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন যুবদল নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুবায়েত হোসেন শামীম মোড়ল।

চট্টগ্রামে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী প্রার্থীরা। চট্টগ্রামে ১৫টি পৌরসভার মধ্যে নির্বাচন যোগ্য পৌরসভা রয়েছে ১০টি। বাকি ৫টি পৌরসভার এখনও মেয়াদ পূর্ণ হয়নি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এমএ হালিম যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে ভোটারদের মতো বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও সন্দিহান। পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী দেবে কিনা এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা প্রস্তুতি নেব। সে নির্দেশনা মেনে আমরা কাজ করব।

বরিশালে ৬ পৌরসভায় বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তবে কোথাও কোথাও বিএনপির প্রার্থীরা এখনও ভোটের প্রস্তুতিই নেননি। দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে তারা নির্বাচনী মাঠে নামবেন। জেলার গৌরনদী পৌরসভার বিএনপির প্রার্থী হতে মাঠে রয়েছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ফকির ও যুবদলের সভাপতি সফিকুর রহমান স্বপন শরীফ। মুলাদী পৌরসভার এখনও বিএনপির কোনো প্রার্থীকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

বাকেরগঞ্জ পৌরসভা মেয়র পদে মাঠে রয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন জমাদ্দার, সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান মোল্লা, শাহিন তালুকদার ও ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম রাজিব। জেলার বানারীপাড়া পৌরসভায় বিএনপির মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহম্মেদ মৃধা ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম।

মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় প্রার্থী হতে মাঠে আছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন দিপেন, পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়া উদ্দিন সুজন ও ইঞ্জিনিয়ার গাজী মো. জাহাঙ্গীর। উজিরপুর পৌরসভায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম খান ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান লিটন প্রার্থী হতে চান।

জোট নয় এককভাবে লড়বে জাতীয় পার্টি

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এককভাবে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তা এবং গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে চায় দলটি। আর এ চিন্তা মাথায় রেখে জোটবদ্ধ নির্বাচনের ভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে এককভাবেই ভোটযুদ্ধে অংশ নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে রোববার বলেন, ‘জাতীয় পার্টি বরাবরই নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আমরা দলীয় ভাবে অংশ নেব। প্রতিটি পৌরসভায় প্রার্থী দেব।

কারা প্রার্থী হবেন তা দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত করা হবে।’ জোটবদ্ধ না এককভাবে নির্বাচন- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেব। এতে দল শক্তিশালী হয়, দলীয় প্রার্থীর মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তাও যাচাই করা যায়।’

জানা গেছে, আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন করতে হয়। এ বাধ্যবাধকতা থেকেই মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভাগুলোতে চলতি বছর ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম দফায় ২৫টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা আছে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ ভোট শুরু হয়ে শেষ হবে মার্চে।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছি। আগ্রহী প্রার্থীদেরও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজন বড় কথা নয়। নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই বড় কথা। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক ক্ষমতা সততার সঙ্গে পালন করবেন। ভোটের নামে যেন কোনো প্রহসন না হয়।’

যুগান্তর সিলেট ব্যুরো জানায়, গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় জাতীয় পার্টির দু’জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। তারা হলেন, পৌর জাতীয় পার্টির নেতা সুহেদ আহমদ ও পৌর যুব সংহতির আহ্বায়ক জমির উদ্দিন। জকিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে জাতীয় পার্টি থেকে একাই লাঙল প্রতীকের দাবিদার পৌরসভা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুল মালেক ফারুক। তিনি বলেন, আমি পৌরসভার অনেক উন্নয়ন করেছি। আমার অসমাপ্ত উন্নয়নকে সমাপ্ত করতে নির্বাচন করব। পৌরসভা সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছে। জনগণ কাক্সিক্ষত কোনো সেবা পাচ্ছেন না। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে ভোটাররা তাকে বিজয়ী করবেন।