ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য গতি বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অপ্রতিরোধ্য গতি আজ বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে। কোভিড ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে উন্নততর অবস্থানে পৌঁছেছে।
বুধবার রাজধানীর সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটানা দায়িত্ব পালনের যুগপূর্তি উপলক্ষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, শুধু কোভিড নয়, প্রায় একই সময়কালে ছয়টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতায় না আসলে বাংলাদেশ হয়তো তলাবিহীন ঝুড়ি অথবা দুর্নীতিতে বার বার চ্যাম্পিয়ন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত রাষ্ট্র হিসেবেই পরিগণিত হতো। বিশ্বের কাছে কোনো উন্নত ভাবমূর্তি ও মর্যাদা থাকতো না।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় মাথাপিছু গড় আয় এখন ২ হাজার ৬৪ ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে এখন উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র ৫০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মহাকাশে দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে সমর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, জিডিপির উন্নয়ন, শিল্প রফতানি ও ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ অনেক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

শ ম রেজাউল করিম আরো বলেন, যারা দেশের উন্নয়নকে ধ্বংস করতে চায়, আবার জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচি দিতে চায়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে তাদের যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে।

এ সময় গত ১২ বছরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দুধের উৎপাদন ২০০৮-০৯ সালে ছিল ২.২৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন, সেটা ২০১৯-২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ১০.৬৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ১২ বছর পূর্বে মাংসের উৎপাদন ছিল ১.০৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন, ২০১৯-২০ সালে সেটা দাঁড়িয়েছে ৭.৬৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন। ডিমের উৎপাদন ছিল ৪.৭ বিলিয়ন, বর্তমানে সেটা ১৭.৩৬ বিলিয়ন। মৎস্য উৎপাদন ২০১০ সালে ছিল ৩০.৬২ লাখ মেট্রিক টন, বর্তমানে সেটা বেড়ে হয়েছে ৪৪.৮৮ লাখ মেট্রিক টন। ২০১০ এ ইলিশের উৎপাদন ছিল ২.৯৯ লাখ মেট্রিক টন, এখন উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৫.৩৩ লাখ মেট্রিক টন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে এক নম্বরে, তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং চাষের মাছ উৎপাদনে বিশ্বের বড় বড় দেশকে অতিক্রম করে আমরা পঞ্চম স্থানে আছি। দেশীয় ৬৪ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের মধ্যে এরই মধ্যে ২৪টি প্রজাতির মাছ বিভিন্ন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণের জন্য আমরা জিন ব্যাংক করেছি। এটি অভাবনীয় সাফল্য।