ঢাকা, সোমবার, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে ফের পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রে আবার এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের কাছে ব্রুকলিন সেন্টারে ডন্টে রাইট (২০) নামের এক যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শহর। বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং ব্রুকলিন সেন্টারের মেয়র কারফিউ জারি করে বিক্ষোভকারীদের বাড়ি ফিরে যেতে বলেছেন।

জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির হত্যার দায়ে এক পুলিশ অফিসারের বিচার নিয়ে মিনিয়াপোলিস এমনিতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে।

ব্রুকলিন সেন্টারের পুলিশ সদর দপ্তরের বাইরে রোববার শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ডন্টে রাইটের নামে স্লোগান দিতে থাকে। পরে দাঙ্গা পুলিশ রাস্তায় নামলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। জনতা পুলিশের গাড়ির ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। প্রতিবাদকারীরা সে সময় ডন্টে রাইটের স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় কিছু দোকানপাটে লুটপাট শুরু হলে মেয়র শহরে কারফিউ জারি করেন। বিক্ষোভের মুখে পুলিশ সদস্যরা সদর দপ্তরের বাইরে ব্যারিকেড তৈরি করেন। তাদের পরণে ছিল দাঙ্গা পুলিশের পোশাক। শত শত বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টায় একটু একটু করে এগুতে তাকে এবং স্লোগান দিতে থাকে ‘বিচার না পেলে আমরা শান্তিও পাব না।’ বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ডন্টে রাইটের পরিবারের সদস‌্য এবং বন্ধুবান্ধবরাও ছিলেন।

এক বিবৃতিতে ব্রুকলিন সেন্টারের পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রোববার বিকেলে ডন্টে রাইট ট্রাফিক আইন অমান্য করার পর পুলিশ তার গাড়ি থামায়। এ সময় পুলিশ জানতে পারে তার নামে আগে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। যখন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে চায়, তিনি তখন আবার গাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়েন। এ সময় পুলিশ তার ওপর গুলি চালায়। এর পরও তিনি গাড়ি চালিয়ে কিছু দূর গিয়ে আরেকটি গাড়িকে ধাক্কা মারেন। এরপর ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একজন যাত্রীও আহত হয়েছেন।

মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলার প্রধান আসামি পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের বিচার দুই সপ্তাহ ধরে চলছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, শভিন ৯ মিনিট ধরে ফ্লয়েডের ঘাড়ের ওপর হাঁটু চেপে বসেছিলেন।

এই দৃশ্য দেখার পর বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। শভিনের বিচার আরও এক মাস ধরে চরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রায় ঘোষণার সময় আবারও গোলযোগ হতে পারে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।