ঢাকা, শুক্রবার, ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বায়তুল মোকাররমে এক জামাতে নামাজ পড়তে পারবেন ১২ হাজার মুসল্লি

আজ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। রাজধানীসহ সারা দেশে খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে হবে ঈদ জামাত।

করোনা ভাইরাসের কারণে এবার জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাত হচ্ছে না। গত বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের পাঁচটি জামাত হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বায়তুল মোকাররমে প্রত্যেকটি ঈদ জামাতের জন্য ইতিমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। মসজিদের প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে ঈদ মোবারক জানিয়ে বিশালাকার সুসজ্জিত গেট করা হয়েছে।

জানা গেছে, করোনার কারণে বায়তুল মোকাররমের পাঁচটি জামাতেই মুসল্লিদের কঠোরভাবে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করতে হবে। এভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাতের জন্য বায়তুল মোকাররমকে প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি ঈদ জামাতে কমপক্ষে একত্রে ১২ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এভাবে প্রত্যেকটি জামাতে ১২ হাজার করে মুসল্লি নামাজে অংশ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তবে করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি শর্তে অনেক মুসল্লি বাসাবাড়িতে ঈদের নামাজ একাকী আদায় করবেন বলে জানা গেছে।

 

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাতের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক আনিছুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের বিষয়টি আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সেই হিসেবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করতে হবে মুসল্লিদের। তারপরও মুসল্লিদের অনেকেই এসব বিষয়ে উদাসিন থাকেন।

তিনি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক জামাতেই কমপক্ষে ১২ হাজারের বেশি মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। স্বাভাবিক সময়ে বায়তুল মোকাররমে ২৫হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন বলেও তিনি জানান।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি ঈদের জামাত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়। সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত, সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাত, সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাত এবং বেলা পৌনে ১১টায় পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত হবে।

বায়তুল মোকাররমে প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন ওই মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন একই মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। তৃতীয় জামাতে ইমামতি করবেন ওই মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। চতুর্থ জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। পঞ্চম ও শেষ জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান।

পাঁচটি জামাতের কোনোটিতে ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, দক্ষিণ সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মন্ত্রী, এমপিসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, ব্যবসায়ী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত আদায় করবেন বলে জানা গেছে।

করোনার কারণে এবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদ জামাতে শামিল হতে মুসল্লিদের বাসা থেকে অজু করে যেতে হবে। নামাজ পড়ার সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে কাতারে দাঁড়াতে হবে। ঈদ জামাত শেষে কোলাকুলি, হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ১২ দফা নির্দেশনা মেনে ঈদ নামাজ আদায় করতে হবে।