ঢাকা, শুক্রবার, ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নাইজেরিয়ায় টুইটার নিষিদ্ধ

নাইজেরিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে টুইটার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুন) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য টুইটারের কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

জানা যায়, বিধি-বহির্ভূত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদু বুহারীর একটি টুইট মুছে ফেলার পর পরই দেশটির পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশ দেওয়ার পর থেকেই মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক থেকে টুইটারে প্রবেশ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যারা এই নির্দেশ অমান্য করে বিকল্প উপায়ে টুইটার ব্যবহারের চেষ্টা করবেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্তাটি ব্যক্তি বিশেষ এবং করপোরেশন উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

টুইটার জানিয়েছে, শুক্রবারে (৪ জুন) দেওয়া তথ্যমন্ত্রী লাই মোহাম্মদের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার বিষয়টি তাদের জন্য গভীর উদ্বেগজনক। তবে শনিবার (৫ জুন) সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির টুইট অপসারণ তাদের জন্য হতাশাজনক, টুইটার ব্যবহারের স্থগিতাদেশের জন্য সেটিই একমাত্র কারণ নয়। এ পদক্ষেপের পরপর মানবাধিকার গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, এটি নাইজেরিয়ায় নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা অবরুদ্ধ করবে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুল তথ্য এবং জাল সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে যা দেশটিতে সহিংসতা জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বদরবারে নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। একজন মুখপাত্র জানান, প্ল্যাটফর্মটিতে ধর্মীয়, বর্ণবাদী, জেনোফোবিক এবং মিথ্যা বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল যা অন্যান্য দেশের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করে বলা হয়, নাইজেরিয়ার করপোরেট অস্তিত্ব ক্ষুণ্ন করতে টুইটারকে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

এক বিবৃতিতে বিচারমন্ত্রী আবুবকর মালামি বলেছেন, টুইটারের উপর নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী অপরাধীদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক প্রসিকিউটরকেও এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।

এর আগে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক, এনবিসিকে নাইজেরিয়ার সমস্ত ইন্টারনেট স্ট্রিমিং পরিষেবা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে লাইসেন্স করতে বলা হয়েছিল।

বিবিসি নিউজের নাইজেরিয়ান প্রতিবেদক এনবিউকা আরজিনমো বলেন, নাইজেরিয়ান সরকার ২০১৫ সালে ক্ষমতা আসার পর থেকেই দেশে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অনুভব করেছে। তবে রাষ্ট্রপতির টুইট মুছে ফেলার বিষয়টি তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। দেশটিতে উদ্ভূত বেশিরভাগ আন্দোলনগুলোতে টুইটার থেকেই শুরু হয়েছিল যেখানে বহু সংস্থা বিক্ষোভকারীদের অনুদান দিয়ে সমর্থন জানিয়েছিলো। সরকার এসব বিক্ষোভ রুখে দিতেই টুইটার ব্যবহারে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।

শনিবার (৫ জুন) লাগোস এবং আবুজারের বিবিসি সাংবাদিকরা জানান, যে তারা দুটি দেশের বৃহত্তম ফোন নেটওয়ার্ক: এমটিএন এবং এয়ারটেলের মাধ্যমে টুইটারের সাথে সংযোগ করতে পারছেন না।

এদিকে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সাইট নেটব্লকস জানিয়েছে, সমস্ত শীর্ষস্থানীয় নেটওয়ার্কগুলোতে টুইটার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা ছিল। ব্যবহারকারিরা ইতোমধ্যে ভিপিএন ডাউনলোড করে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে টুইটার ব্যবহার করছেন। তবে কতদিন পর্যন্ত তারা ব্যবহার করতে পারবেন, তা দেখার বিষয়।

তথ্যসূত্র: বিবিসি