ঢাকা, শুক্রবার, ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দেশের ৬ জেলা ভূমিকম্প ঝুঁকিতে

দশ দিনের মধ্যে সিলেটে এত বার ভূম্পিকম্প এবারই প্রথম। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে অনেক দূরে শুধু সিলেট নগরে কেন ভূকম্পন হচ্ছে, সে হিসাব মেলাতে পারছে না কেউ। এ নিয়ে সারাদেশেই আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শুধু সিলেটই নয়, দেশের ছয়টি জেলা ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশে বিপজ্জনক ভূকম্পনের প্রধান উৎস দুটি। এর একটি হলো ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাউকি ফল্ট। অন্যটি টেকনাফ-পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি অঞ্চল সাবডাকশন জোন। তাই সিলেট, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সর্বাপেক্ষা কম ঝুঁকিপূর্ণ।

ভূত্বকীয় পাত বা টেকটনিক প্লেটই হলো ভূমিকম্পের অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে। ইন্ডিয়ান ও বার্মিজ প্লেটের মধ্যে অবস্থান করছে সিলেট। সিলেটের উত্তরে রয়েছে ডাউকি ফল্ট। টেকটনিক প্লেটগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শক্তি জমা হচ্ছে এবং এই জমে থাকা শক্তিই ভূমিকম্পের মাধ্যমে বের হয়ে আসে।

নেচার জিওসায়েন্স জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার মানচিত্র অনুযায়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম উচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ অঞ্চল।

সিলেটে ১০ দিনের মধ্যে ১০ দফা ভূমিকম্পের পর নড়েচড়ে বসেছে বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৭৯৬ সালে ডাউকি ফল্ট এলাকায় বড় মাত্রার ভূ-কম্পন হয়েছিল। রিসার্স অনুযায়ী বড় মাত্রার ভূ-কম্পন থেকে আরেকটি বড় মাত্রার ভূ-কম্পন হতে ৫০০ থেকে দুই হাজার বছর সময় নেয়। এ হিসেবে বাংলাদেশে বড় ধরণের ভূমিকম্প হতে আরো ৩০০ বছর লাগার কথা। তবে চট্টগ্রাম ত্রিপুরা বেল্টে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকম্প হয়নি। সেখানে ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের দুই দিকের ভূ-গঠনে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমা রয়েছে। এর প্রথমটি সিলেট অঞ্চলে ডাউকি ফল্টে, অন্যটি চট্টগ্রাম ত্রিপুরা বেল্টে পাহাড়ি অঞ্চলে। রাজধানী ঢাকার মধ্যে বড় ভূমিকম্প সৃষ্টির মতো ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থা না থাকলেও সিলেট বা চট্টগ্রামে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে সেটির মারাত্মক প্রভাব পড়বে এখানেও।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমদ বলেন, ভূমিকম্প হবেই, এটা আমরা প্রতিরোধ করতে পারব না। তবে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। শহরের মাটির নিচে নতুন কোনো ফল্ট লাইন সৃষ্টির বিষয়টিও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

গত ২৯ মে ৭ বার এবং ৩০ মে একবার সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সোমবার (৭ জুন) দেড় মিনিটের মধ্যে দুই দফা ভূমিকম্প হয়েছিল।