ঢাকা, সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পুলিশ কর্মকর্তার আর্থিক সহায়তায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন মাতোয়ারা বেগম

“বাংলাদেশের পুলিশ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কাজেই শুধু নিয়োজিত নয় তারা অসহায় মানুষদের জন্য মানবিকও বটে তার এক অন্যান্য উদাহরণ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান স্যার। ঘরে ঘরে এমন সন্তান জন্ম লাভ করুক। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে সবসময় ভালো রাখেন।” এমনটি বলেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার মধ্য হাড়িয়া গ্রামের অসহায় মাতোয়ারা বেগম।
মাতোয়ারা বেগম বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের কথায় বাম পা কেটে ফেলে পঙ্গুত্ব অবস্থায় পড়েছিলেন দীর্ঘদিন। পরে চিকিৎসক তাকে কৃত্রিম পা লাগানোর পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে থাকেন তিনি। চলতি বছরের গত ৫ই আগস্ট মাতোয়ারা বেগমের কৃত্রিম পা লাগানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য চেয়ে পোস্ট করেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সংগ্রামী ও জনদরদি এ জেড এম বর্নী।
আর্থিক সাহায্যের এমন পোষ্ট ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও বর্তমান পুলিশ সুপার, (কমান্ডার) সিকিউরিটি এন্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন-১ (এসপিবিএন-১) ঢাকা, বাংলাদেশ এর নজরে পড়লে তিনি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাতোয়ারা বেগমের কৃত্রিম পা লাগানোর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব নেন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাতোয়ারা বেগমকে ঢাকায় নিলে দারিদ্রতার কারণে থাকা খাওয়ার সমস্যার কথা জানতে পারলে, ঢাকা যাওয়া আসা, এক মাসের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার সকল খরচ বহন করেন, মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তার মানবিকতায় ও ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তায় চিকিৎসা গ্রহণ করে মাতোয়ারা বেগম আবার তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। ঢাকার সিআরপি’র চিকিৎসকের পরার্মশ অনুযায়ী আরও কিছু দিন গেলে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন মাতোয়ারা বেগম।
মাতোয়ারা বেগম জানান, আমাদের গ্রামে এতো কোটিপতি মানুষ থাকতে কেও ৫ টাকা ছাড়া ১০ টাকা দিতে চায় না। আর স্যার একাই এতো গুলো টাকা দিলো।
ভবানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারওয়ার হোসেন (মন্টু মাস্টার) পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করে বলেন, এমন মানবিক পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের জন্য পুলিশের সুনাম এখনো অক্ষুন্ন আছে। তিনার মতো আরও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সকলেই এধরণের মানবিক সাহায্যে এগিয়ে আসেন তাহলে আমরা সাধারণ জনগণ খুশি হব। তাদের এমন কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরাও যেন সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি সেটাই আশা করি।
রাণীংশকৈল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আকাশ জানান, মনিরুজ্জামান স্যার ইতিমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক অসহায় মানুষকে এভাবে সহযোগিতা করেছেন। তিনি সব সময় দরিদ্র অসহায় মানুষদের পাশে দাড়িয়েছেন। মানবিক কাজে সার্বিক সময় তিনি সকলের পাশে দাড়িয়েছেন। তার নিজ অর্থায়নে এসব করেছেন তিনি। এই মানবিক কর্মকর্তা অনেক প্রশংসিত হয়েছেন ও তাকে নিয়ে আমাদের গর্ব হয়। তিনার মতো পুলিশ যদি প্রতিটি ঘরে জন্ম নেয় তাহলে পুলিশকে নিয়ে কেও কোন কটুকথা বলতে ও কটু মন্তব্য করতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি।