সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতার

রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ২:৫৫ অপরাহ্ণ | 209 বার

সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতার

সুনামগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফজলু মিয়া(৩৫)কে গ্রেফতার করেছে বিজিবি। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় মাদক মামলা নং-২৯ দায়ের করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ইয়াবা,মদ,গাঁজা ও অস্ত্র তৈরি সরঞ্জামসহ সোর্স কালাম মিয়া, মাদক সম্রাজ্ঞী আংগুরী বেগম,চোরাচালানী সিরাজুল ইসলাম ও আবুল কাসেমকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হলেও তাদের গডফাদারের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে চাঁদাবাজি,মাদক বাণিজ্য ও নির্যাতন দিনদিন বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এব্যাপারে বিজিবি, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী জানায়,জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী ফজলু মিয়া,তার সহযোগী লালঘাট গ্রামের বিজিবি ওপর হামলার মামলার আসামী আব্দুল আলী ভান্ডারী,কয়লা চোরাচালান মামলার আসামী জানু মিয়া,লাকমা গ্রামের অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী ল্যাংড়া বাবুল,বরুঙ্গাছড়া গ্রামের ফিরোজ মিয়া,বড়ছড়ার কামাল মিয়া,দুধেরআউটা গ্রামের চাঁদাবাজি মামলার আসামী জিয়াউর রহমান জিয়াগং গতকাল শনিবার রাত ৯টায় বালিয়াঘাট গ্রামের রাশিদ মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে প্রত্যেকে তাদের নিজ এলাকায় যাওয়ার সময় খবর পেয়ে চাঁরাগাঁও ক্যাম্প কমান্ডার মোনায়েম খান অভিযান চালিয়ে কলাগাঁও নামক স্থান থেকে ৩০পিছ ইয়াবাসহ ফজলু মিয়াকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।

আর অন্যান্যদেরকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানাগেছে। কারণ গডফাদার আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দাপটের সাথে সীমান্ত এলাকায় বসবাস করে চোরাচালান,চাঁদাবাজি ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য করছে। তার অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় গত ১৫.০২.১৯ইং শুক্রবার দৈনিক কালেরছবি পত্রিকার সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী সাবজল হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে টাকা ছিনতাই করার ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাকসহ মোট ৫জনকে আসামী করে মামলা করেছে নির্যাতত ওই সাংবাদিক।

বালিয়াঘাট গ্রামের গৃহবধু নাজমা বেগম চাঁদা না দেওয়ায় আব্দুর রাজ্জাক তার বাহিনী নিয়ে ওই গৃহবধুর বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করাসহ শারীরিক নির্যাতন করার কারণে গত ০৮.০৫.২০১১ইং আদালতে আব্দুর রাজ্জাক,তার ভাই আব্দুল কদ্দুসসহ মোট ১৬জনের বিরুদ্ধে দঃবিঃ আইনের-৪৪৮/৩৮৫/৩৮০/৪২০/৪২৭/৩২৩/৩৫৪/৩৪ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে কয়লা পাচাঁরের সময় কয়লা ও নৌকাসহ রাজ্জাকের বড়ভাই আব্দুল কদ্দুসকে গ্রেফতার করে এবং বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার আক্তারুজ্জামান বাদী হয়ে আব্দুর রাজ্জাক,তার ভাই আব্দুল কুদ্দুস ও সোর্সদের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় মামলা নং-৯,(জি.আর-৭২/০৭),তারিখ-১৭.০৯.০৭ইং দায়ের করেন। এই মামলায় আদালত ৪ বছরের সাজা দেওয়ার পর আব্দুল কদ্দুস দীর্ঘদিন জেলখাটে এবং আব্দুর রাজ্জাক পলাতক থেকে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রেব হয়ে আসে। বর্তমানে আদালতে মামলা নং-৬/২০০৮ইং হিসেবে চলমান রয়েছে বলে জানাগেছে।

এব্যাপারে সাংবাদিক সাবজল হোসেন,গৃহবধু নাজমা বেগম,সিজিল মেম্মার,শফিকুল মেম্মার, নুরুল আমিন মেম্বারসহ আরো অনেকেই বলেন-চোরাচালান,চাঁদাবাজি ও মাদকসহ মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সীমান্ত সন্ত্রাসী আব্দুর রাজ্জাককে শীগ্রই গ্রেফতার করে তার অবৈধ কোটিকোটি টাকা ও সম্পদ সরকারের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক মাকসুদুল আলম বলেন,সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ করাসহ চোরাচালানীদেরকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কেরানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যানের হাজার কোটি টাকার সম্পদ

Design & Developed by: Ifad Technology