লেবু তো খান, জানেন লেবুর খোসার উপকারিতা কত?

সোমবার, ১৩ মে ২০১৯ | ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ | 72 বার

লেবু তো খান, জানেন লেবুর খোসার উপকারিতা কত?

অনেকেই সকালে উঠে জলে পাতিলেবু চিপে নিয়ে সেই জল খান ৷ এই অভ্যাস খুবই ভালো ৷ আবার ডালের সঙ্গে লেবু চিপে খাওয়া ব্যাপারটা কিন্তু ভোজন রসিকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ৷ কিন্তু এই লেবু তো খাচ্ছেন৷ তবে জানেন? লেবুর খোসারও গুণ অনেক ৷ পড়ুন…
লেবুর খোসায় থাকা সাইট্রাস বায়ো-ফ্লেভোনয়েড শরীরের ভেতরে যাওয়ার পরপরই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমতে শুরু করে। ফলে সার্বিকভাবে মন, মস্তিষ্ক ও শরীর একদম চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তো যখনই দেখবেন শরীর আর চলছে না, তখন অল্প করে লেবুর খোসা চটজলদি খেয়ে ফেলবেন। দেখবেন উপকার পাবেন দ্রুত। ‘পেকটিন’ নামক একটি উপাদান প্রচুর মাত্রায় থাকায় ওজন কমার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। কারণ এই উপাদানটি শরীরে উপস্থিত অতিরিক্ত চর্বিকে ঝরিয়ে ফেলতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে।

লেবুর খোসায় উপস্থিত ‘স্য়ালভেসস্ট্রল কিউ ৪০’ ও ‘লিমোনেন্স’ নামে দুইটি উপাদান ক্যান্সার সেলের ধ্বংসে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে নিয়মিত লেবুর খোসা খেলে শরীরের ভেতরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার কোনও সম্ভাবনাই থাকে না। এখানেই শেষ নয়। লেবুর খোসা খাওয়া মাত্র ব্যাকটেরিয়াল এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

ভিটামিন সি এর ঘাটতি হলে মুখ গহ্বর সংক্রান্ত একাধিক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তাই তো নিয়মিত লেবুর খোসা খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এতে উপস্থিত ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, জিঞ্জিভাইটিস সহ একাধিক রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম থাকায় লেবুর খোসা খেলে ধীরে ধীরে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ইনফ্লেমেটরি পলিআর্থ্রাইটিস, অস্টিওপরোসিস এবং রিউমাটয়েড আথ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

লেবুর খোসায় আছে ‘পলিফেনল’ নামে একটি উপাদান। যা শরীরে খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়। অন্যদিকে লেবুর পটাশিয়াম ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। তাই তো যাদের পরিবারে কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে তাদের ডায়েটে লেবুর খোসা মাস্ট। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েটে স্যালাড ও সেদ্ধ সবজি থাকে। তাতে একটু লেবুর খোসা কুচি করে দিলে খাবারে লেবুর সুঘ্রাণ পাওয়া যায়। খাবারের স্বাদও বাড়বে।

আরও পড়ুন- লটকনের উপকারিতা জানলে এখুনি খাওয়া শুরু করবেন!

অনেকটা আঙুরের মতো দেখতে লটকন একটি সুস্বাদু ফল। এটি এশিয়া্র বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মালয়েশিয়া, ভারতে বেশি হয়। আমাদের দেশেও এই ফলের ব্যাপক চাষ হয়। লটকন গাছের পাতা ও বাকলও খুব উপকারী। প্রাচীনকালে এগুলি ওষুধি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। লটকন যখন কাঁচা থাকে তখন এটি সবুজ দেখায়। যখন পেকে যায় এটা আঙুরের মতো রঙ হয়,ভেতরে গাঢ় বেগুনি আঁশ থাকে।

লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সাধারণ ঠান্ডা-কাশি সারাতেও লটকনের জুড়ি নেই। ভিটামিন সি ত্বকের জন্যও খুব উপকারী। এ কারণে লটকন ত্বকের তারুণ্য বাড়াতেও দারুন কার্যকরী। আয়রণের স্বল্পতার কারণে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূণ্যতা তৈরি হয় শরীরে। লটকনে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ থাকে। এ কারণে এটি রক্তশূণ্যতা দূর করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়। লটকনে কলার মতোই পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকে। যা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।সেই সঙ্গে এটি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়।

লটকন ক্যালসিয়ামেও ভালো উৎস। এ কারণে লটকন হাড় সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। লটকনে প্রচুর ফাইবারও থাকে যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা বলেন, “লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। দিনে দুতিনটি লটকন খেলে শরীরের ভিটামিন সি’র চাহিদা পূরণ হয়।” এছাড়াও রয়েছে নানা রকম পুষ্টি উপাদান যা শরীরকে সুস্থ রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। রুচি বাড়াতে লটকন বেশ উপকারী।

ভিটামিন সি ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখে। লটকনে ভিটামিন সি বেশি থাকায় দিনে দুতিনটি লটকন ভিটামিন সি’র সার্বিক চাহিদা পূরণ করতে পারে। এই ফলে নানা রকম খনিজ উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম উল্লেখযোগ্য। এইসব উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখে। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯ গ্রাম ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্রোমিয়াম থাকে। রক্ত ও হাড়ের জন্য বিশেষ উপকারী আয়রন। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৫.৩৪ মি.গ্রা আয়রন থাকে।

লটকনে ভিটামিন বি পাওয়া যায়। প্রতি ১০ গ্রাম লটকনে ১০.০৪ মি.গ্রা ভিটামিন বি ওয়ান ও প্রতি ১০০ গ্রামে ০.২০ মি.গ্রা ভিটামিন বি টু পাওয়া যায়। খাদ্যশক্তির ভালো উৎস লটকন। দেহ সক্রিয় রাখতে ও দৈনন্দিন কাজ করতে খাদ্যশক্তি প্রয়োজন হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম লটকনে ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায় যা আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলেন জানান, ফারাহ মাসুদা। লটকনে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম যা দেহ গঠন ও কোষকলার সুস্থতায় কাজে লাগে। এইসব উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহাসচিব গ্রেফতার

Development by: Creative it Solution