রিফাত হত্যাকাণ্ডের নতুন ভিডিও সম্পর্কে মুখ খুললেন মিন্নি

বুধবার, ১০ জুলাই ২০১৯ | ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ | 83 বার

রিফাত হত্যাকাণ্ডের নতুন ভিডিও সম্পর্কে মুখ খুললেন মিন্নি

বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রিফাতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নির ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে পোস্ট দিচ্ছেন কেউ কেউ।

ভিডিওতে কলেজের প্রধান ফটক থেকে মিন্নিকে নিয়ে রিফাতকে বের হতে দেখা যায়। পরে মিন্নি ফের কলেজের ভেতরে দিকে যান। এসময় রিফাত মিন্নিকে ভেতরে যেতে বাধা দেন। এরপরই সন্ত্রাসীরা কলেজ গেট থেকে রিফাতকে ধরে সামনের দিকে নিয়ে যায়। মিন্নি তখন পেছন পেছন হাঁটছিলেন। কয়েক সেকেন্ড পরেই নয়ন বন্ড ও অন্যরা যখন কিল, ঘুসি, লাথি দিতে শুরু করে তখনই মিন্নি ঝাঁপিয়ে পরে তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে বলেন মিন্নি বলেছেন, ‘কিছু লোক আছে যারা বিষয়টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছে। আমি চরম মানসিক নিপীড়নে ভুগছি। কেউ আমাদের পাশে নেই, সবাই শুধু সমালোচনায় মুখর। আমি সবার সহযোগিতা চাই।’

মিন্নি বলেন, ‘ওইদিন সকাল সোয়া ১০টা হয়তো। রিফাত আমাকে বলে, আব্বু (রিফাতের বাবা) আসছে, চলো তোমার সঙ্গে দেখা করবে। আমি ওকে বলেছিলাম আমার কাজ শেষ করে বের হই। ও আপত্তি করে বলে, আব্বু গেটে অপেক্ষা করছে। আমি তখন ওর সঙ্গে বের হই। গেটের বাইরে এসে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখি বাবা কোথাও নেই। তখন আমি বলি তুমি মিথ্যে বলেছ, চলো রুটিন নিয়ে আসি। আমি ওকে নিয়ে ভেতরে যেতে চাই। ঠিক এ মুহূর্তেই ১০-১২ জন আমাদের ঘিরে ধরে ও রিশান ফরাজী ওর পথরোধ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতভম্ব হয়ে ওদের পেছনে হাঁটতে থাকি। পরে যখন আক্রমণ করে তখন প্রতিরোধে চেষ্টা করি। আমি হেল্প চাই অনেকের কাছে। কেউ আসেনি। ওরা চলে যাওয়ার পর রিফাত নিজেই হেঁটে রিকশায় ওঠে। আমার পায়ের পাতা কেটে যাওয়ায় জুতো ছাড়া হাঁটতে পারছিলাম না, তখন জুতো পায়ে দেই। এসময় একজন আমার হাতে ব্যাগ তুলে দেয়।’

মিন্নি বলেন, ‘আমার কাছে ফোন ছিল না। দুটি ছেলে মোটরসাইকেলে আমাদের রিকশা ফলো করে যাচ্ছিল। আমি তাদের হেল্প চাইলে তারা ধমকে দেয়।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে মিন্নি বলেন, ‘বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার দৃশ্য দেখেছি। মানসিকভাবে আমি বিধ্বস্ত। আমার অনুরোধ, আমি তো আপনাদের মেয়ে বা বোন হতে পারতাম, আপনারা না জেনে কোনও মন্তব্য করবেন না। আমি চরম মানসিক নিপীড়নে ভুগছি। কেউ আমাদের পাশে নেই, সবাই শুধু সমালোচনায় মুখর। আমি সবার সহযোগিতা চাই।’

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে গত ২ জুলাই ভোর রাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিন জনসহ ছয় জন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত মারা যান।

এক মাসের শিশুকে রাস্তায় ফেলে গেলেন মা, কোলে তুলে নিলেন ডিসি

Design & Developed by: Ifad Technology