বিশেষায়িত বীজতলা রক্ষায় তৎপর বিএডিসি

শনিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৬:৫৮ অপরাহ্ণ | 63 বার

বিশেষায়িত বীজতলা রক্ষায় তৎপর বিএডিসি

বিশ্বে মানুষকে বেচে থাকতে হলে দরকার খাদ্যের। আর এ খাদ্য উৎপাদন করতে সর্বদা ব্যস্ত থাকে মানুষ। বিশ্বে মানুষ বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্য চাহিদাও বেড়ে থাকে। সেজন্য দরকার অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদনের। এ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য হাতে নেয়া হয় নতুন নতুন প্রযূক্তি ও কলা কৌশল। চলে গবেষণা।

আমাদের দেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। মানুষ বেড়েছে। বেড়েছে খাদ্য চাহিদাও। সে সাথে কমেছে আবাদী জমি। বিশ্বায়নের এ যুগে বসে নেই বাংলার কৃষি-কৃষক ও গবেষকেরা। নিজেদের গবেষণায়
উদ্ভাবন করছে নতুন নতুন প্রযূক্তিভ। বাড়ছে উৎপাদন। তারপরেও ছোট এ দেশটির খাদ্য চাহিদা পুরনের পর উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনে নজর দিয়েছে কৃষি বিভাগ ও কৃষকেরা। প্রয়োজনে দেশীয় প্রযূক্তির পাশে ধার করা প্রযূক্তি ব্যবহার করেও কাংখিত সফলতায় পৌছাতে বদ্ধ পরিকর কৃষি বিভাগ। আর এ সফলতা আনতে গবেষকদের পাশে প্রারম্ভিক পর্যায়ে কাজ করে থাকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা বিএডিসি’র বীজ উৎপাদন বিভাগ।

বাংলাদেশে তিনটি মৌসুমে ধান আবাদ করা হয়ে থাকে। তার ভেতর বোরো মৌসুমে চাল উৎপাদন হয় বেশী। সেজন্য এ মৌসুমে কৃষকদের বীজের চাহিদাও থাকে বেশী। বীজ সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিলে উৎপাদন ব্যহত হয়। কৃষকের পড়ে মাথায় হাত। কৃষকদের ঘড়ে রক্ষিত যে বীজ থাকে সেটা চাহিদার তুলনায় নগন্য। তারপরেও বীজ সঠিক নিয়মে সংরক্ষনের অভাবে সে বীজে উৎপাদন হয়ে থাকে কম। তাই তারা নির্ভর হয়ে পড়ে সরকারী বীজের উপর। মান বজায় রেখে অতি সতর্কতার সাথে সরকারী খামারে উৎপাদিত বীজ সংরক্ষন করে কৃষকের হাতে পৌছে দেয়া হয় ডিলারদের মাধ্যমে। এ বীজ থেকে বীজতলা নির্মান করে আবাদে প্রত্যাশিত ফলন ঘড়ে তুলতে পারে কৃষক। অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হয় দেশ। লাঘব হয় মানুষের খাদ্যর চাহিদা।

উপরে বলেছিলাম প্রযূক্তির কথা। খাদ্য ঘাটতি পূরন ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য উদ্বৃত্তের লক্ষ্যে আমাদের দেশে ধান গবেষণার প্রতিষ্ঠানের ব্রিধান, বিনা ধানও কাজ করে যাছে। গবেষণা করে তারা উৎপাদন করেছে নতুন নতুন জাত। ফলন বৃদ্ধির জন্য কৃষকের দোড় গোড়ায় পৌছে দিয়েছে দেশী জাতের ধানের পাশে উচ্চ ফলনশীল জাত। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে চাহিদা নাগালের মধ্যে থাকলেও খাদ্যে কাংখিত উদ্বৃত্ততা পরিলক্ষিত হয়নাই। আর সে লক্ষ্য পুরনের জন্য হাতে নেয়া হয়েছে বিশেষায়িত বিদেশী প্রযূক্তিতে উদ্ভাবিত বীজ। কৃষকদের তথ্যে, দেশের গবেষণায় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ধান যেখানে বিঘাপ্রতি কুড়ি থেকে বাইশ মন ফলন পাওয়া যায়-সেখানে বিষেশায়িত বিদেশী প্রযূক্তির ধানের বীজ থেকে উৎপাদিত ধান বত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ মন ফলন পাওয়া যায়। এরই মধ্যে বোরো মৌসুমে কৃষকের বীজের চাহিদা পূবনের জন্য এখন থেকেই বীজ উৎপাদনের দিকে ঝুকে পড়ছে বিএডিসি’র খামার দফতর। বীজতলা নির্মানে মাঠে ফেলেছে বিশেষায়িত ফিলিপাইনে উদ্ভাবিত এসএল-৮এইচ জাতের বীজ। ফিলিপাইনস্ পাইনিয়র হাইব্রিড রাইচ সিড প্রডিউচার এগ্রিটেক ক্রপ (এসএলএসি) গবেষণায় উদ্ভাবিত এ জাতটির বীজ ফিলিপাইন থেকে আমদানী করতে হয়। চায়নার হাইব্রিড রাইচের জনক হিসেবে খ্যাত ইয়ান লংপিং এসএল-৮এইচ জাতটির মূল উদ্ভাবক।

খুবই স্পর্শকাতর এ জাতটির বীজতলা নির্মান করতে হয় সতর্কতার সাথে। আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে নির্মান করতে হয় বীজতলা। এরই মধ্যে বিএডিসির খামারে বীজতলা ফেলা হয়েছে। চলমান কুয়াশা থেকে রক্ষা করার জন্য নেয়া হয়েছে কৌশল। কুয়াশা থেকে রক্ষা করতে সময় মত আবরন ও রোদের সাথে সাথে প্রয়োজনীয় তাপের জন্য সময়মত আবরন অপসারনের কাজ করতে হয় তীক্ষè দৃষ্টির সাথে। এর কোন ব্যাতিক্রম ঘটলে উৎপাদনে তারতম্য দেখা দিতে পারে। তবে জাতীয় নির্বাচনের কারনে ফিলিপাইন থেকে বীজ আসতে দেরী হওয়ায় বীজতলা নির্মানে কিছুটা দেরী হয়েছে। সে কারনে উৎপাদন কিছুটা ঘাটতি হতে পারে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের।

পাবনা টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মহিবুর রহমান জানান, এসএল-৮এইচ জাতের বীজ উৎপাদন বেশ স্পর্শকাতর। দুইটি বৈশাদৃশ্য বা অসম পরাগায়নের মাধ্যমে বীজের সৃষ্টি করতে হয় সতর্কতার সাথে। এ জাতের বীজ কৃষক পর্যায়ে সংরক্ষন করা সম্ভব না। সে কারনে এ বীজ ফিলিপাইন থেকে আমদানী করে বীজতলা নির্মানের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন করতে হয়। বীজটি উৎপাদন যেমন ব্যয় বহুল, তেমনি কৃষক পর্যায়ে দামটাও সাধারন বীজের তুলনায় একটু বেশী পরে। তবে এ ধানটির আবাদ সম্প্রসারন করতে পারলে দেশে খাদ্যের উদ্বৃত্ততা বৃদ্ধি পাবে।

সম্পর্কের অবনতি ঘটলেই ধর্ষণের অভিযোগ, হয়রানির শিকার পুরুষরা

Development by: Creative it Solution