ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যানের হাজার কোটি টাকার সম্পদ

হাজী মোঃ ইকবাল হোসেন কেরানীগঞ্জ শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ডক ইয়ার্ড অ্যান্ড শিপ ইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি । সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়ম ও নারী অপহরণের অভিযোগে হয়েছে একাধিক মামলা । প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী ইকবাল হোসেন এর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ রয়েছে । এলাকায় জমি দখল মার্কেট দখল অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলা আওয়ামীলিগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক তিনি। রাজনৈতিক দলের নেতা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকায় তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি । কেরানীগঞ্জে তার কথার বাইরে যায় এমন কোন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না । তিনি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ছিলেন সাধারণ একজন ব্যক্তি, কালক্রমে সরকারি দলের নেতা ও রাষ্ট্রক্ষমতার কর্তাব্যক্তিদের আশ্রয় নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে প্রতিষ্ঠিত হন শিল্পপতিতে।

ইকবাল হোসেন এর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আয়কর অপরিচিত নম্বরঃ- ৪১২১১৮৯৩৫৭৭৯ রাজস্ব সার্কেল-০৮৪, রাজস্ব জোন-০৪ ঢাকা। মেসার্স ইকবাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চর খেজুরবাগ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ জেলা ঢাকা, পিতার নামঃ হাজী মোঃ হেলাল উদ্দিন, মাতার নাম রেনু বেগম, স্ত্রীর নাম সাবিনা আক্তার, বাসা হোল্ডিং-৫৭ নং গ্রাম রাস্তা নম্বর-৯৯৯ ডাকঘর শুভাঢ্যা,কেরানীগঞ্জ-১৩১০,ঢাকা।/তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অনিয়ম, জমি দখল, মার্কেট দখল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল করে হাজার কোটি টাকা উপার্জন করার খবর পাওয়া গেছে।
আবার উপার্জিত সম্পত্তিও ব্যবসা-বাণিজ্যের রাজস্ব প্রদানেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার সব সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে সম্পদের অনুসন্ধানে জানা গেছে,কেরানীগঞ্জের কবুতর পাড়ায় আটতলা ভবন রয়েছে তিনটি, বলরামের সমনে সাত তলা মার্কেট দুইটি,বয়েজ ক্লাবের রোডে নয়তলা মার্কেট একটি দুই তলা মার্কেট একটি,চেয়ারম্যান বাড়ি রোডে সাত তলা বাড়ি দুইটি, খেজুর বাগে পাঁচতলা বাড়ি চারটি, তেলঘাটে পাঁচতলা বাড়ি ওমার্কেট দুইটি,বড়ইতলা ডকইয়ার্ডে দুইটি প্লটে ৩৬০ শতক জমি,বইতড়লায় টিনসেড বাড়ি দুইটি, বইতড়লায় ওয়াশমিল, খেজুর বাগে ওয়াশিল,বসক্লাবের পাশে ওয়াশ মিল ,কয়কটি জিন্স কাপড়ের ব্যাবসা প্রতিস্ঠান, নয়টি জাহাজ ও বাল্কহেড, প্রাইভেটকার (১১) টি, জাহাজ কাটা বা স্ক্রাপ ব্যাবসা ,ঘাট ইজারা, জাহাজ মালিক সমিতিসহ নিজ নামে বেনামে ব্যাংক ডিপোজিট ,দেশের বাইরে বাড়ি আছে।
কিছুদিন আগে আফরোজা জেনারেটর নামক প্রতিষ্ঠানটি, চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের ভাই শাহাবুদ্দিন ক্যাপ্টেন এর মাধ্যমে দখলে নিয়ে এর মালিক আকতার হোসেনকে বিতাড়িত করা হলে ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা হয় ।
ধর্ষিতা এক নারীকে মামলা তুলে নিতে এবং তার লোকজন কে বাঁচাতে ইকবাল চেয়ারম্যান মাহমুদা নামক এক জনকে অপহরণ করে আটক রেখে তার কাছ থেকে নানা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ভিডিও নেয়ায় তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে আরো একটি মামলা হয়েছে। এবং দেশের প্রায় সকল পত্রপত্রিকায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।৯জুলাই “বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ৪ এ মামলা নং যাহার ধারাঃ নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৮/১০/৩০। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

২০১২ সালে ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জের মমতাজ মার্কেট দখল অভিযানে চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে স্থানীয় আমবাগান স্কুলের সোহেল নামের ‍৭ বছরের এক ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। এ সময় এলাকায় নিহত শিশু সোহেল হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলন হলে সেই সময়ে নিহতের পরিবারকে মমতাজ মার্কেটে একটি দোকান এবং নগদ দুই লাখ টাকার মাধ্যমে সেই মামলাটি ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ।ব্যানারে লেখা ছিল, ‘দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মমতাজ মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে সাত বছরের স্কুলছাত্র সোহেল সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত: পুলিশ নীরব কেন’।
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষিতা নারীকে অপহরণ করায় ইকবাল হোসেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকাসহ নানা টেলিভিশন চ্যানেলের খবর প্রকাশিত হয়।এতে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইকবাল চেয়ারম্যান। সে তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে বাদিকে এলাকাছাড়া করে এবং অপহরণ করে ভিকটিমের কাছ থেকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ দিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সংবাদ পরিবেশন করায়। যে কারণে গত ইং২১/০৯/২০২০ তারিখে সাইবার ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় মামলা নং২৮৯। এত অপরাধ করেও ইকবাল হোসেন বহাল তবিয়তে ।তার বিরুদ্ধে করোনা কালে ত্রান চুরির অপরাধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের অভিযোগ আছে। রাজস্ব প্রদান রয়েছে অনিয়ম। রাজস্ব বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া সহ হাজার কোটি টাকার সম্পদের রাজস্ব আদায়ে পদক্ষেপ নেয়া হোক